নওগাঁয় কারা জেল হেফাজতে আব্দুর রশিদ নামে এক আওয়ামী নিশিদ্ধ লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতার মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার বিকাল সাড়ে চার টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি সন্ধ্যায় মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন নওগাঁ জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার আবুল কালাম আজাদ।
আব্দুর রশিদ জেলার রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাইল হিন্দু পাড়া গ্রামের মৃত কান্দুর প্রামাণিকের ছেলে। তিনি ছিলেন ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো পরিবারে। সেই সঙ্গে গ্রামের লোকজনের মাঝেও হতাশা দেখা যায়।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে বিস্ফোরক মামলায় কারাগারে ছিলেন তিনি। হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে কারাগার থেকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে।
জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আব্দুর রশিদ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইনের মামলায় কারাগারে ছিলেন। হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ৪টা ১০ মিনিটে ভর্তি করালে ৪টা ৩৫ মিনিটে তিনি মারা যান।”
হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান।
পরিবারের সদস্যদের তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাত ৮টার দিকে জানতে চাইলে ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার আবু জার গাফফার বলেন, “আব্দুর রশিদ নামে এক হাজতিকে বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে নিয়ে আসা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি মারা যান। মূলত তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।”
২৫ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার কুজাইল গ্রামে রাণীনগর থানা পুলিশ অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযান চালায়। অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করে। উপজেলা বিএনপির পার্টি অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
একই দিন মোতালেব হোসেন নামে এক যুবলীগ নেতাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর শুক্রবার ২৬ ডিসেম্বর তাদের দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়। শনিবার কারা হেফাজতে থেকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন আব্দুর রশিদ।