দোকান ভাঙচুর, চার লক্ষাধিক টাকা ও মালামাল লুট, স্বামীকে হত্যাচেষ্টা—আদালতে সিআর মামলা
ঢাকা (কেরাণীগঞ্জ) প্রতিনিধি:
ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে এক নারী ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, দোকান ভাঙচুর, মারধর, হত্যাচেষ্টা ও বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ আমলী, ঢাকায় একটি সিআর মামলা (২০২৪) দায়ের করা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেন রাশিদা বেগম (৪৪), স্বামী মোঃ জাকির হোসেন। তিনি দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার খেজুরবাগ, সাতপাখি এলাকার বাসিন্দা ও “রাশিদা ইলেকট্রিক অ্যান্ড হার্ডওয়্যার স্টোর”-এর স্বত্বাধিকারী।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাশিদা বেগম তার স্বামীর কাছ থেকে হেবা ঘোষণাপত্র দলিল (নং-৪২০৮, তারিখ ০২/০৬/২০২১) মূলে উক্ত সম্পত্তির মালিক হন। পরবর্তীতে নামজারি ও খাজনা পরিশোধসহ বৈধভাবে ভোগদখলে থাকা অবস্থায় তিনি সেখানে দোকান ও বসতঘর স্থাপন করেন।
গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ দুপুরে, দোকানের একটি অংশ মেরামতের কাজ চলাকালে অভিযুক্তরা বাধা প্রদান করে। অভিযোগে বলা হয়, শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড নং-৬ এর মেম্বার আজিজুল হক (৫৫) এর নেতৃত্বে অন্য আসামীরা মিস্ত্রিকে মারধর করে এবং কাজ বন্ধ করে দেয়।
বাদিনী ও তার স্বামী বাধা দিলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে লাঠি, রড ও হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে বাদিনীর স্বামী মোঃ জাকির হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করা হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় অভিযুক্তরা দোকানে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রিক ও হার্ডওয়্যার সামগ্রী লুট করে। পাশাপাশি দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে নগদ
বিকাশের টাকা ২ লক্ষ টাকা,
৫০০ টাকার নোটে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা,
১০০ টাকার নোটে ৫ হাজার টাকা,
মোট প্রায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া বাদিনীর দুই পুত্র ঘটনাস্থলে এলে তাদেরকেও মারধর করা হয় এবং একটি রিয়েলমি (Realme) অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় বাদিনীর স্বামীকে সরকারি মিডফোর্ড হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক তাকে Physical Assault মন্তব্যসহ চিকিৎসা সনদ প্রদান করেন।
বাদিনী অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। উপায় না পেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
আসামীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৪৪৭/৪৪৮/৫০৬ ধারায় মামলা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
রাশিদা বেগম বলেন,
আমি একজন নারী ব্যবসায়ী। সম্পূর্ণ বৈধভাবে আমার সম্পত্তিতে ব্যবসা করছি। কিন্তু প্রভাবশালী ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে আমার পরিবারকে হত্যা চেষ্টা ও সর্বস্ব লুট করা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনায় রেখেছেন। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।