রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন
Headline :
রূপসায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার ওমর ফারুক. লালমনিরহাটে শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৮ টি যানবাহন থেকে ৮ হাজার ৯ শ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি জনাব মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ-বিপিএম মহোদয়ের পঞ্চগড় জেলা সফর: তেঁতুলিয়া মডেল থানা ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় মধুপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ, ১৯ অক্টোবর সশরীরে হাজিরার নির্দেশ। কালিয়াকৈরে ওষুধ কারখানায় আগুন, আহত ১ নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন বেসরকারী অভিনেতা এবং স্থানীয় বাজার কর্তৃপক্ষের সাথে বাজার সংযোগের উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামের রৌমারী মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিক্সার চালকসহ ৫জন নিহত নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন বালিয়াকান্দিতে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

Update : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

লালমনিরহাটের মোগলহাট সীমান্তে ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে শাওন (১৬) ও সাব্বির (১৪) নামে আপন দুই ভাই নিখোঁজ হয়েছে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা মেহেদী নামে আরেক কিশোরকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুই ভাইয়ের কোনো সন্ধান মেলেনি।

​আজ রোববার (৭ জুন) দুপুরে মোগলহাট সীমান্তের বিওপি ক্যাম্প সংলগ্ন ধরলা নদীতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিখোঁজ শাওন ও সাব্বির মোগলহাট কর্ণপুর (মেডিকেল মোড়) এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে। তারা স্থানীয় মোগলহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের যথাক্রমে নবম ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

​স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে শাওন ও সাব্বিরসহ তিন কিশোর ধরলা নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় দুই ভাই হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। তাদের সাথে থাকা মেহেদীকে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাৎক্ষণিক উদ্ধার করতে পারলেও, বাকি দুই ভাই স্রোতের তোড়ে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।

​পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী নদীতে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পায়নি। খবর দেওয়া হলে লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে নদীর তীব্র স্রোতের কারণে প্রথম দফায় ব্যর্থ হয়ে রংপুর থেকে বিশেষ ডুবুরি দলকে তলব করা হয়।

​ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “নদীতে নামার আগে কিশোররা আমার সাথে কথা বলেছিল। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় আমি তাদের সাবধানে এবং তীরের কাছাকাছি থাকতে বলেছিলাম। গভীর পানিতে যেতে নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা নদীতে নামে এবং মুহূর্তের মধ্যে ডুবে যেতে থাকে। আমি দ্রুত নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেহেদীকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও, বাকি দুই ভাইকে রক্ষা করতে পারিনি।”

​নিখোঁজ দুই ভাইয়ের চাচা আলাল উদ্দিন জানান, ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক দল সন্ধান চালাতে ব্যর্থ হওয়ায় রংপুর থেকে বিশেষ ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে মূল উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছেন।

​লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রোকন উজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। নদীর তীব্র স্রোতের কারণে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান মেলেনি। এ কারণে রংপুরের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়। রংপুর থেকে ডুবুরি দল এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে দিয়েছে।”

​সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা), নিখোঁজ দুই ভাইয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মোগলহাট এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নদীর পাড়ে নিখোঁজ সন্তানদের অপেক্ষায় স্বজনদের আহাজারিতে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।


More News Of This Category