মোঃ আজিজুল ইসলাম
হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ এর আলোচিত মুহিবর রহমান হত্যাকান্ডের মূল আসামী কে গ্রেফতার করলো ( পিবিআই) হবিগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি করেন আসামী মোঃ ফজল মিয়া
হবিগঞ্জ জেলার সদর থানার শিয়ালদাড়িয়া গ্রামের আলোচিত মুহিবুর রহমান (২৫) হত্যাজনিত ক্লুলেস মামলার মূল আসামী মোঃ ফজল মিয়া (২৭) ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে প্রায় ০৩ বছর পর গ্রেফতার করে মামলার রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই
হবিগঞ্জ।
ঘটনায় বিবরন করেন ভিকটিমের পিতা – বাদী আতর আলী তিনি বলেন গত ২৬/০৬/২৩ খ্রীঃ তারিখ রাত অনুমান ০৮ ঘটিকার সময় নিজ বসতবাড়ী হইতে গান শোনার কথা বলিয়া বাড়ী হইতে বাহির হয় ভিকটিম মুহিবুর রহমান রাতে বাড়ীতে না ফিরলে বাদীর পরিবারের লোকজন ভিকটিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ চেষ্টা করিলে তাহার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়
গত ২৭/০৬/২৩ ইং তারিখ বেলা ১২.৪৫ ঘটিকার সময় হবিগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন ০৩নং তেঘরিয়া ইউনিয়নের অন্তগর্ত শিয়ালদাড়িয়া চান মিয়া ডোবার মধ্যে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পাইয়া বাদীর পরিবার কে সংবাদ প্রদান করিলে সাক্ষী তাজুল ইসলাম বাবুল ঘটনাস্থলে গিয়া লোকজনের সহায়তায় লাশ ডোবা হইতে উদ্ধার করে ভিকটিম মুহিবুর এর লাশ বলিয়া শনাক্ত করেন তার পরিবার।
এসময় ভিকটিম পিতাঃ মোঃআতর আলী দাবী করেন আমার ছেলে কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে।
এই মর্মে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অতিরিক্ত আই জিপি. পিবিআই জনাব মোস্তফা কামাল এর সঠিক দিক নির্দেশনায় এবং পিবিআই হবিগঞ্জ ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার. মোঃ হায়াতুন- নবী এর সার্বিক তত্বাবধানে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক জনাব পিযুষ কান্তি তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে গত ২৭/০২/২৬ তাং সন্দিগ্ধ আসামী মোঃ ফজল মিয়া কে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড হতে গ্রেফতার করেন।পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় আসামী মোঃ ফজল মিয়া ভিকটিম মুহিবুর কে টিউবওয়েলর রড দিয়ে মাথায় বার বার আঘাত করে হত্যা করে কৌশলে লাশ ডোবায় ফেলে পালিয়ে যায়।
এরপর থেকে আসামী ফজল মিয়া কে গ্রেফতারের জন্যে হবিগঞ্জ পিবিআই টিম বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালাতে থাকে আসামী ফজল কে ঢাকা থেকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে
আসামী ফজল মিয়া তার পিতা সঞ্জব আলী মৃত্যুর ১০/১২ দিন পর সিন্নি করার জন্য গ্রামবাসীকে ডেকেছিল সেখানে ভিকটিম মুহিবরের পিতা আতর আলী লোকজনের সামনে আসামী ফজল মিয়া ইঙ্গিতে কথাবার্তা বলে।এতে আসামী ফজল মিয়ার অপমাননিত বোধ করে। এর কিছুদিন পর আসামী ফজল মিয়া প্রতিবেশি মস্তল মিয়া নিকট হতে তার পাওনা ১৫০০/টাকা নিয়ে কথাকাটি ও মারামারি হয় উক্ত বিষয়ে গ্রামের সালিশ বসে ভিটকিম পিতা আতর আলী তিন হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে মস্তুল মিয়ার পায়ে ধরান
এতে আসামী ফজল মিয়া অপমানিত বোধ করে এবং আক্রোশ্বান্ধিত হয়। এই ঘটনায় ফজল মিয়া গত ২৬/০৬/২৩ তাং দিবাগত রাত অনুমান ১২.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিম মুহিবুর কে টিউবওয়েল এর রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে লাশ জনৈক চাঁন মিয়ার ডোবায় ফেলে দেয়। গ্রেফতারকৃত আসামী ফজল মিয়া বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে সে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।