বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
Headline :
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত শাহরাস্তি থানা পুলিশ কর্তৃক সিআর পরোয়ানাভু্ক্ত ০১ জন আসামী গ্রেফতার। শিরোনাম:* লিজা আক্তারের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠিত গজীপুর জেলার কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী মিনি বার ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থার ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ফ্যান উপহার গাইবান্ধায় জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত রংপুরে ১৭ তরুণীর হাতে বিনামূল্যে ল্যাপটপ হস্তান্তর: চট্টগ্রামের মিরসরাইতে ১২ নং খৈইয়াছড়া ইউনিয়ন কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ দেবিদ্বার উপজেলার ৭ নং এলাহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী মামুনুর রশিদ খান

সিরাজগঞ্জে বিএনপির ছায়ায় বালু সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে সাত্তার, উঠছে নতুন প্রশ্ন

Update : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার আরমান খান অপু 

সিরাজগঞ্জে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও যমুনা তীরের বালু ব্যবসা ঘিরে পুরোনো প্রভাবশালী একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পৌর শহরের ধানবান্ধি মহল্লার ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, যিনি স্থানীয়ভাবে “বালু সাত্তার” নামে পরিচিত। একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির প্রভাবশালী অংশের ছায়ায় থেকে তিনি ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় সূত্র বলছে, গত ১৫ বছরে বালু উত্তোলন, ঠিকাদারি ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এই সাত্তার। দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে অপ্রদর্শিত সম্পদের তথ্য নিয়ে কাজ করছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন সাত্তার। সেই প্রভাব ব্যবহার করে পৌর এলাকার ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পান। এরপর যমুনা নদীকেন্দ্রিক বালু ব্যবসায় তার একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হয় বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে গেলেও সাত্তারের ব্যবসা বন্ধ হয়নি বরং এটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। সম্প্রতি সদর উপজেলার বনবাড়িয়া এলাকায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের একটি রিসোর্ট কেনার খবরও এলাকায় আলোচনায় এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যমুনা সেতুর পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলনে বিধিনিষেধ থাকলেও বিভিন্ন স্থানে তা মানা হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় অবিরত রাতের আঁধারে ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। সদর উপজেলার রানীগ্রামসহ কয়েকটি বালুমহলে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রভাবশালী মহলের সমর্থন নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, “আব্দুস সাত্তার অতীতে আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন। এখন তিনি নিজেকে বিএনপির লোক পরিচয় দিচ্ছেন। কিন্তু তার ব্যবসা আগের মতোই চলছে।”
আরও অভিযোগ রয়েছে, সাত্তারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি, হামলা কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অতীতের কয়েকটি হামলার ঘটনার সঙ্গেও তার নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত হলেও সেসব অভিযোগের অনেকগুলোর বিচারিক অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতেও তার নাম না থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের দাবি, ক্ষমতার পালাবদল হলেও প্রভাবশালী অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সাত্তার বলেন, আমরা কেউ দোষ ত্রুটির উর্ধ্বে নই। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি করা দোষের কিছু না। আসল বিষয় হলো আমি দোষী নই।

সিরাজগঞ্জের সচেতন মহল বলছে, বালু উত্তোলন, সম্পদের উৎস, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক ভূমিকা—সব বিষয় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে যমুনা নদী ও সেতু এলাকার পরিবেশগত ঝুঁকিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।


More News Of This Category