জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:
যশোরের মনিরামপুর উপজেলাধীন মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ জন শিক্ষার্থী এবছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়াই এই সংকটের মূল কারণ বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র শিক্ষা বোর্ডে জমা না পড়ায় ওই ৮ শিক্ষার্থীর আবেদন বাতিল হয়ে যায়। এতে করে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, “এটি অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা। অনলাইন সংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক তাজমুল হোসেনের ওপর ন্যস্ত ছিল। তার অসতর্কতা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।”
ঘটনার দায় স্বীকার করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা ডেকে কম্পিউটার শিক্ষক তাজমুল হোসেনকে সাময়িকভাবে দরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান শিক্ষক।
এদিকে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সন্তানরা বছরের পর বছর পরিশ্রম করেছে। শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শুধু একজন শিক্ষককে বরখাস্ত করলেই দায় শেষ হয় না—ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক দুর্বলতার নগ্ন উদাহরণ। তারা দাবি জানান, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিক্ষার্থী অবহেলার শিকার না হয়, সে জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।