বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
Headline :
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোঘণা বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ২৫ অক্টোবর২০২৬,রবিবার হাকিকুল ইসলাম খোকন, কালিয়াকৈরে সিএনজি স্টেশনে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ লাইন তীব্র গ্যাসের সংকটে চালকদের জনজীবন বিপর্যস্ত কালীগঞ্জে এসএসি ও দাখিলে কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা লামায় সরইয়ে শতাধিক পয়েন্টে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ। আখাউড়ায় খাসির মাংস না পেয়ে বিয়ে ভেঙে দিলেন জাপান প্রবাসী যুবক। স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বেচ্ছায় রক্তদান চাঁপাইনবাবগঞ্জে অগ্রণী সেচ প্রকল্পের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জে পুলিশের অভিযানে স্কাফ সিরাপসহ গ্রেপ্তার ২ মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনলাইন জুয়ার নীরব মহামারী প্রতিরোধে আলোচনা সভা

লামায় সরইয়ে শতাধিক পয়েন্টে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ।

Update : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

লামায় সরইয়ে শতাধিক পয়েন্টে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ।

মোহাম্মদ করিম লামা- আলীকদম প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে শতাধিক পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের ১, ৩, ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন নদী, খাল ও ঝিরি থেকে দীর্ঘদিন ধরিয়া একটি সংঘবদ্ধ চক্র দিন-রাত বালু উত্তোলন করিয়া আসিতেছে। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলপ্রবাহের ভারসাম্য নষ্ট হইতেছে, অন্যদিকে কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়াছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের তীর যুবলীগ নেতা সাহাবউদ্দিন ও রিয়াদসহ সংশ্লিষ্ট একটি বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের দিকে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণে প্রশাসনের তদন্ত প্রয়োজন।
সরেজমিনে ঘুরিয়া স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলিয়া জানা যায়, সরই ইউনিয়নের তিল্লাছড়া, হাবিবুর রহমানপাড়া, আমতলী, আমতলী বাজারসংলগ্ন এলাকা, হরিখাল, পতেঙ্গাবিল, সরই ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন সরই খাল, পাঞ্জাখানা সড়ক, আমিরের মুরগির খামার সড়ক, বাইঘ্যার দোকান, বাঘডেপা, জুড়মনি পাড়া, হোসেন মেম্বার পাড়া ও হাচানাভিটা সেতুসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন স্থানে বালুর ডিপো গড়ে উঠিয়াছে বলিয়া অভিযোগ পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের দাবি, কোনো কোনো স্থানে একসঙ্গে ২০ থেকে ৩০টি সেলু মেশিন বসাইয়া ছোট নদী, খাল ও ঝিরি হইতে বালু উত্তোলন করা হইতেছে। পরে এসব বালু বিভিন্ন যানবাহনে করিয়া অন্যত্র পাচার করা হয়। অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ও ঝিরির তলদেশের স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তিত হওয়ার পাশাপাশি তীরভাঙন এবং জলপ্রবাহে বিরূপ প্রভাব পড়িতেছে বলিয়া অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সহায়তায়ও এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হইতেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগাইয়া সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরিয়া প্রশাসনের নজর এড়ানোর চেষ্টা করিতেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কথা বলিলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের আশঙ্কা থাকে। ফলে অনেকে প্রকাশ্যে অভিযোগ করিতে সাহস পান না। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় ক্ষমতার কারণে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়াছে।
অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থে নির্মিত গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট ঝুঁকির মধ্যে পড়িতেছে। একই সঙ্গে নদী ও ঝিরির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হইয়া বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় জনপদে জলাবদ্ধতা কিংবা আকস্মিক ভাঙনের ঝুঁকি বাড়িতে পারে বলিয়া আশঙ্কা করিতেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় পরিবেশবাদী ও মানবাধিকারকর্মী রুহুল আমিন বলেন, প্রাকৃতিক উৎস হইতে অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন পরিবেশ ও জনস্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব বিবেচনা না করিয়া প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি প্রশ্ন তুলিয়া বলেন, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকিয়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীরা কি প্রশাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণকারী সংস্থার চেয়েও অধিক ক্ষমতাবান?
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হইয়াছে এবং জেল-জরিমানাও করা হইয়াছে। তিনি বলেন, “পরিবেশ ধ্বংস, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের সঙ্গে জড়িতরা যে দলেরই হউক কিংবা যত বড় নেতা বা প্রভাবশালীই হউক, তাহাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে। পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হইবে না।”
বাংলাদেশের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর বিধান অনুসারে নির্ধারিত শর্ত ও অনুমোদনের বাইরে বালু বা মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রহিয়াছে। ফলে সরই ইউনিয়নের অভিযোগকৃত বালু উত্তোলনস্থলসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন, বৈধ ইজারা বা অনুমোদন যাচাই এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের দাবি উঠিয়াছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরই ইউনিয়নের নদী, খাল, ঝিরি, কৃষিজমি ও যোগাযোগ অবকাঠামো রক্ষায় অবিলম্বে প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করা হউক। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ, বালুর ডিপোসমূহের বৈধতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হইলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক।
তাঁহাদের আরও দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনবোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করিয়া অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নদী-ঝিরি ও এলাকাসমূহ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হউক। স্থানীয়দের ভাষায় সরইয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর পরিবেশগত ও জনজীবনকেন্দ্রিক ক্ষতির দায় বহন করিতে হইতে পারে সংশ্লিষ্ট সকলকে।


More News Of This Category