ক্রাইম রিপোর্টারঃ
রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রাম পুলিশ নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের একাধিক অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভেলু গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ দিলরুবার উত্থান, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দিলরুবা জেলা মহিলা লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং মোছাঃ নাছিমা জামান–এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। নাছিমা জামান ববি রংপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক আশীর্বাদেই দিলরুবার কর্মজীবনের ধারাবাহিক অগ্রগতি ঘটে—প্রথমে ভেলু কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যকর্মী, পরে সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের নারী উদ্যোক্তা এবং সর্বশেষ গ্রাম পুলিশ পদে নিয়োগ।
সরকারি নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২৪ আগস্ট জারি হওয়া নং-০৫.৫৫.৫৪৯.০০৩.০৫.০১১.২৩-৬৭০ এ তৎকালীন ইউএনও মোঃ নাইম হাসান খান–এর স্বাক্ষরে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় এবং দিলরুবার নিয়োগ অনুমোদিত হয়। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতামূলক যাচাই, মেধা মূল্যায়ন ও স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা।
গ্রাম পুলিশ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও দিলরুবা বর্তমানে নারী উদ্যোক্তা পরিচয়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রেখে হয়রানি এবং অসদাচরণের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
যদিও এ অভিযোগের পক্ষে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, তবুও স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা না নেওয়া, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, এমনকি মামলা করার ভয় দেখিয়ে বাদী-বিবাদীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও দাবি করা হয়, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে বিশেষ ব্যক্তিদের সুবিধা প্রদান এবং থানায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে দিলরুবার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। একইভাবে সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়—বরং ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনসেবার কাঠামোকে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত।
সুশাসন নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার নথি প্রকাশ এবং অভিযোগসমূহের স্বচ্ছ যাচাইয়ের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জনআস্থা আরও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।