জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে বেসরকারিভাবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৯৬ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৪৬ হাজার ৩২০ ভোট বেশি অর্জন করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ২৭৬ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রশিদ আহমেদ পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৪১৫ ভোট। এছাড়া হাতপাখা প্রতীকের মাস্টার জয়নাল আবেদীন টিপু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৮ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের এম এ হালিম পেয়েছেন ২ হাজার ১৯৪ ভোট এবং ফুটবল প্রতীকের ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান পেয়েছেন ২ হাজার ৭৮ ভোট।
পোস্টাল ভোট বাদে মনিরামপুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৬২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা মোট ভোটারের ৭৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রশাসনের তদারকিতে সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হয়। কয়েকটি কেন্দ্র থেকে ছোটখাটো অভিযোগ এলেও তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।
ভোট চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনায় দাঁড়িয়ে জনগণের রায়ই তার শক্তি। তিনি ভোটারদের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনকে উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক চর্চা হিসেবে উল্লেখ করেন। ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সমর্থকদের সংযত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো মিছিল, স্লোগান বা উচ্ছ্বাস নয়; বরং সিজদায় নত হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগই হবে তাদের অঙ্গীকার।
তিনি আরও বলেন, মনিরামপুরের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াই তার প্রধান দায়িত্ব। কোনো ধরনের জুলুম, সহিংসতা বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। জনগণের ভালোবাসায় নির্বাচিত হওয়ায় তাদের প্রত্যাশা পূরণে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন বলে আশ্বাস দেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোট গণনা শেষে ফলাফল উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। উল্লেখযোগ্য ভোটার উপস্থিতি ও বড় ব্যবধানে বিজয়ের মধ্য দিয়ে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হয়েছে বলে স্থানীয় মহলে আলোচনা চলছে।