স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক (র্যাবিস) রোগ প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পোষা কিংবা পথকুকুর ও বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক মানুষ হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে আসলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় তারা বিপাকে পড়ছেন।
জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানেও বর্তমানে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন নেওয়ার চেষ্টা করতে হচ্ছে।
সোমবার সরেজমিনে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ভ্যাকসিন প্রদান কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে এনে টিকা নিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি ভ্যাকসিনের এ্যাম্পুল চারজন রোগীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিজনকে প্রায় ১৩০ টাকা করে দিতে হচ্ছে।
অর্থাভাবে অনেক দরিদ্র পরিবারের রোগীরা প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন নিতে দ্বিধায় পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসকদের মতে, জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত ভ্যাকসিন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ভ্যাকসিন নিতে আসা সাখাওয়াত নামে এক রোগী বলেন, হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। বাইরে থেকে কিনে এনে টিকা নিতে হচ্ছে। এক ডোজের জন্য ১৩০ টাকা দিতে হচ্ছে।
মেয়েকে ভ্যাকসিন দিতে নিয়ে এসে মা মুনমুন জানান, তার মেয়েকে একটি বিড়াল কামড় দিয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে ভ্যাকসিন দিতে হাসপাতালে এলেও এখানে ভ্যাকসিন না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহীদুল্লাহ বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। তবে আশা করছি, ঈদের পর নতুন চালান এলে এই সংকট কেটে যাবে।