নিজস্ব প্রতিনিধি:
ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলাধীন উত্তর চরভূতা রহিমপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় (EIIN: 101510)-এর প্রধান শিক্ষক কর্তৃক স্বাক্ষর জালিয়াতি, অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যসহ পাঁচজন আবেদনকারী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগকারীরা হলেন
১. মোঃ মফিজুল ইসলাম, পিতা: মোঃ মজিবল হক
২. মোঃ সোহেল, পিতা: মৃত আবদুল করিম
৩. মোঃ ইউছুফ, পিতা: উজির আহাম্মদ
৪. মোঃ সোহেল, পিতা: আবুল হোসেন
৫. মোসাঃ সিমা, স্বামী: মোঃ আকবর
সকলের ঠিকানা রহিমপুর হরিগঞ্জ, ইউনিয়ন চরভূতা, থানা লালমোহন, জেলা ভোলা।
অভিযোগে বলা হয়, আবেদনকারী মফিজুল ইসলাম বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য এবং তিনি ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ছিলেন (স্বারক নং বশিবো/বিঅ/২০২২/৬৯৯২, তারিখ ০৭-০৮-২০২২)। তার দাবি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক তার পুত্রবধূকে আয়া পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে গোপনে চার লাখ টাকা নেন এবং কাউকে বিষয়টি না জানাতে অনুরোধ করেন।
পরবর্তীতে দৈনিক আজকের পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২ থেকে ৫ নম্বর আবেদনকারী নিয়ম মেনে আবেদন করলেও তাদের কাউকেই সাক্ষাৎকার বোর্ডে ডাকা হয়নি। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রধান শিক্ষক নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, দাতা, প্রতিষ্ঠাতা এবং সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অফিস সহায়ক, নৈশ প্রহরী ও আয়া মোট চারটি পদে অবৈধভাবে নিয়োগ দেন এবং এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা বাণিজ্য করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, দেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি বাতিল থাকা অবস্থায় প্রধান শিক্ষক কীভাবে এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করলেন তা এলাকাবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া তিনি ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের শিক্ষকদের হাজিরা বহিও সরিয়ে ফেলেছেন। অনেক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন যে তারা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার সুযোগ পাচ্ছেন না। অবৈধ নিয়োগের পর প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না এবং অসুস্থতার অজুহাতে বাসায় অবস্থান করেন।
এলাকাবাসী ও অভিযোগকারীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার জবাবদিহি করতে বললেও তিনি কোন গুরুত্ব দেননি। প্রতিষ্ঠাতা পরিবার ও আবেদনকারীরা বলছেন, বিদ্যালয়টি তাদের পরিবার ও এলাকার মানুষের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এটি নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাশতযোগ্য নয়।
অভিযোগকারীরা দুদকের চেয়ারম্যানের বরাবর আবেদন করে অনুরোধ করেছেন যাতে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া চারজন কর্মচারীর বেতন–ভাতা বন্ধ করা হয়, নিয়োগ বাতিল করা হয় এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতি তদন্তের দাবি জানান তারা।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, দুদক দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে।