হারিয়ে গেছে তাদের প্রিয় “পুতুল”
ভারতের জলপাইগুড়িতে আজ শোকস্তব্ধ পরিবেশ। একসময় যে শহরের অলিগলিতে ছোট্ট একটি মেয়ের হাসি ছড়িয়ে পড়ত, আজ সেই শহর কাঁদছে তার চিরবিদায়ে। পুতুল আর নেই…
ঘটনার ধারাবাহিকতায় জানা যায়—
তৎকালীন ভারতবর্ষের বর্তমান বাংলাদেশের ফেনি জেলা থেকে জীবিকার তাগিদে ভারতের জলপাইগুড়িতে পাড়ি জমান ইস্কান্দার মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী তৈয়বা মজুমদার। জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় বসবাস শুরু করে ইস্কান্দার মজুমদার গড়ে তোলেন ব্যবসা-বাণিজ্য। দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করেন তিনি।
এই জলপাইগুড়িতেই, ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট, জন্ম নেয় এক ফুটফুটে কন্যাশিশু—
ডাকনাম পুতুল, আর পুরো নাম খালেদা বেগম।
ছোটবেলা থেকেই পুতুলের মতো অপরূপ সুন্দর ছিলেন বলেই বাবা-মা ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সবার আদরের “পুতুল”।
জলপাইগুড়ির প্রতিবেশীরা আজও স্মৃতিচারণ করে বলেন—
ইস্কান্দার মজুমদার ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির মানুষ। হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান—সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে ছিল তার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। কোনোদিন কারও সঙ্গে বিরোধ বা দ্বন্দ্বে জড়াননি তিনি।
পুতুল পড়াশোনা করেন জলপাইগুড়ির সদর গার্লস স্কুলে। দেশভাগের পরও বহু বছর পরিবারসহ তারা জলপাইগুড়িতেই বসবাস করেন।
পরবর্তীতে জমিজমা বিক্রি করে পরিবারটি চলে আসে বর্তমান বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলায়। সেখানে আবারও ব্যবসা শুরু করেন ইস্কান্দার মজুমদার এবং স্থায়ীভাবে বসবাস গড়ে তোলেন। খালেদা জিয়া ভর্তি হন দিনাজপুর সরকারি গার্লস স্কুলে।
একটি মেয়ের জীবন থেকে জন্ম নেয় একটি জাতির নেতৃত্বের গল্প।
আজ সেই পুতুলের প্রয়াণে ভারতের জলপাইগুড়িতেও নেমে এসেছে গভীর শোক।
প্রতিবেশীরা চোখের জলে স্মরণ করছে তাদের আদরের পুতুলকে।
দোয়া করি_
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবার প্রিয় পুতুল,
বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
আমিন।