সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
Headline :
ইসলামী বিশ্বের প্রখ্যাত বিপ্লবী নেতা ও ন্যায়ভিত্তিক সংগ্রামের প্রতীক মহামান্য আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী–এর শত্রু পক্ষের হামলায় শহিদ হওয়ায় গণঅধিকার পার্টি পিআরপি এর চেয়ারম্যান মহোদয়ের শোক বার্তা। বগুড়া শহরে খতিবকে ছুরিকাঘাতে হত্যা। ইসলামী বিশ্বের প্রখ্যাত বিপ্লবী নেতা ও ন্যায়ভিত্তিক সংগ্রামের প্রতীক মহামান্য আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী–এর শত্রু পক্ষের হামলায় শহিদ হওয়ায় গণঅধিকার পার্টি পিআরপি এর চেয়ারম্যান মহোদয়ের শোক বার্তা। শপথ গ্রহণের পর অফিসে বসেই দুর্নীতিমুক্ত আধুনিক খুলনা গড়ার প্রতিশ্রুতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ড্রেন পরিষ্কারে ভোরে মাঠে নামবেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক মঞ্জু। নরসিংদীর মনেহরদী উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই মাদককারবী গ্রেফতার। ভোলাহাট সীমান্তে ডিএনসি’র অভিযানে হেরোইনসহ আটক ১। দিঘলিয়ায় সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি জনগণ, আর প্রশাসন হচ্ছে জনগণের সেবক। বিদায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি.শোক প্রকাশ। সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে সিএইচসিপির বিরুদ্ধে মাটি ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।

পাহাড়ে টেকসই শান্তি

ড. এস কে আকরাম আলী:  / ৬৩ Time View
Update : শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫

ড. এস কে আকরাম আলী:

প্রত্যেক মানুষ শান্তি ভালোবাসে এবং এটি প্রতিটি সমাজের জন্য অপরিহার্য। পৃথিবীর অনেক সমাজ শান্তির জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়েও তা অর্জন করতে পারেনি। রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য হলো ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমাজে শান্তি নিশ্চিত করা, কিন্তু সমাজে তা প্রতিষ্ঠা করা সহজ নয়।

সুশাসন ও আইনের শাসন থাকলে শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হয়। তবে একটি সমাজে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা অপরিহার্য। পৃথিবীর অনেক দেশ তাদের সমাজে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছে, কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো এখনও সে পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

বেশিরভাগ তৃতীয় বিশ্বের দেশ দরিদ্র এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ছাড়া সমাজে শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সমাজে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল চাবিকাঠি হিসেবে ধরা হয়।

আরও পড়ুনঃ বুড়িগঙ্গায় শিশুর গোসল, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

বাংলাদেশের মানুষ মূলত অর্থনৈতিক অধিকারের জন্য যুদ্ধ করেছিল, কিন্তু আজও তারা সেটি পুরোপুরি ভোগ করতে পারেনি। একই অবস্থা ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের। আসল সমস্যা শুরু হয়েছিল যখন তাদের দীর্ঘদিনের নিজস্ব পরিচয় ভুলে জোরপূর্বক বাঙালি হতে বাধ্য করা হয়।

চাকমা নেতা মানবেন্দ্র লারমা এর প্রতিবাদ করেন এবং পাহাড়ি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য জেএসএস সংগঠন গড়ে তোলেন। জেএসএস পরবর্তীতে সশস্ত্র সংগঠনে রূপান্তরিত হয় এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে মোতায়েন হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন এবং ব্যাপক উন্নয়নকাজ পরিচালনার জন্য বিপুল সংখ্যক শ্রমিক সেখানে নিয়ে আসেন। এসব শ্রমজীবী মানুষকে বসতি স্থাপনে উৎসাহিত করা হয়, কিন্তু শুরু থেকেই তারা পাহাড়িদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

এরশাদও জিয়াউর রহমানের নীতি অনুসরণ করেন এবং পাহাড়ে ব্যাপক উন্নয়নকাজ করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান নামে দুটি নতুন জেলা সৃষ্টি করেন।

আরও পড়ুনঃ দাওয়াত ও তাওফীক: দাঈর ভূমিকা* *বনাম আল্লাহর ফয়সালা

তবে বিদ্রোহী এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে যতক্ষণ না ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ সরকার ও বিদ্রোহী নেতা সন্তু লারমার মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শেখ হাসিনা ভারতের সহায়তায় এটি সম্ভব করেন, তবে ভারত নবগঠিত ইউডিএফএফকে সমর্থন দিতে থাকে। শেখ হাসিনার পুরো শাসনামলে পাহাড় শান্ত ছিল, কিন্তু আগস্ট ২০২৪ সালে তার পতনের পর পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পাহাড়ি জনগণ ভারতের সহায়তায় এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে এর লক্ষণ স্পষ্ট। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ বাড়তে পারে।

শুধুমাত্র টেকসই শান্তিই পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে। তবে কীভাবে তা অর্জন করা যায়, সেটিই জাতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এটি নিঃসন্দেহে একটি অভ্যন্তরীণ সংকট এবং সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব নয়।

আমাদের এমন কিছু কার্যকর ব্যবস্থা খুঁজে বের করতে হবে যা পাহাড়ে বাঙালি ও পাহাড়ি জনগণের জন্য টেকসই শান্তি ও সমৃদ্ধি আনতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের দেশে শক্তিশালী চিন্তাশীল গবেষণা প্রতিষ্ঠান নেই যারা স্থায়ী সমাধানের জন্য বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিতে পারে।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে **ঢাকা সেন্টার ফর মিলিটারি হিস্ট্রি** পাহাড়ে টেকসই শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে। এখানে অনেক সামরিক গবেষক আছেন যারা সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন পাহাড়ে সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এছাড়াও কিছু বিশিষ্ট বেসামরিক গবেষকও এ কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত আছেন। এ কেন্দ্র চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কিছু সুপারিশ দিতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ভালোবেসে বিয়ে, ভাড়া বাসায় নববধূর লাশ রেখে স্বামী পলাতক

**সুপারিশসমূহ:**

১. পাহাড়ি মানুষকে আমাদের ভাই-বোন হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং বিবাহবন্ধনসহ বিভিন্ন সামাজিক সম্পর্কের মাধ্যমে বাঙালি ও পাহাড়িদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে।

২. সমস্যাটিকে অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে এবং সামরিকভাবে এর সমাধান করা যাবে না। কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ সমাজে কখনো শান্তি আনতে পারে না। সেনা ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে, তবে তাদের ভূমিকা কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। সেনা সদস্যদের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে এবং পাহাড়িদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে।

৩. উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে, বিশেষ করে পাহাড়ি জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে। প্রয়োজনে সমতল এলাকার শ্রমিকদের নতুন প্রকল্পে যুক্ত করতে হবে।

৪. পাহাড়ি জনগণকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য উৎসাহিত করতে হবে। তাদের কৃষি ব্যাংক ও এনজিওর মাধ্যমে স্বল্পসুদে ঋণ দিতে হবে।

৫. বিদেশি এনজিওগুলোর কার্যক্রম সরকারি কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নতুন কোনো বিদেশি এনজিওকে পাহাড়ে কাজ করার অনুমতি দেওয়া যাবে না। বরং স্থানীয় এনজিওগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে এবং সরকার তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।

৬. পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। বিশেষ করে চিকিৎসা ও প্রকৌশল বিভাগে তাদের ভর্তি সংখ্যা বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুনঃ বীরগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

৭. পাহাড়ি স্নাতকদের, বিশেষ করে নারী স্নাতকদের, সরকারি ও বেসরকারি খাতে যোগদানে উৎসাহিত করতে হবে। তাদের সমতলে চাকরির সুযোগ দিতে হবে যাতে তারা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বাঙালিদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। এতে পাহাড়ি অর্থনীতির উপর চাপ কমবে।

৮. স্থানীয় সরকারকে এমনভাবে গঠন করতে হবে যাতে পাহাড়ি জনগণ সেখানকার সদস্য হিসেবে সম্মান ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে। প্রতিটি ওয়ার্ডে উভয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিয়ে নাগরিক কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

আমাদের ভারতের গতিবিধির ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সব সময় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

সব প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য হবে পাহাড়ি জনগণকে আস্থা ও বিশ্বাসের মধ্যে আনা। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া কোনো শান্তি স্থায়ী হয় না। যদি আমরা সত্যিই পাহাড়ে টেকসই শান্তি চাই, তবে আস্থা ও বিশ্বাস যেকোনো মূল্যে গড়ে তুলতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category