নিজস্ব প্রতিবেদক।
নেত্রকোণায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের কৃষক মোকশেদ উদ্দিন খান।
গত ২৪ শে মার্চ নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক বরাবর দায়েরকৃত অভিযোগে তিনি লিখেছেন, গত বছরের ২৩ শে জুলাই নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নাগরিক আবেদনের প্রেক্ষিতে আবেদন আমরা কলমাকান্দা উপজেলাধীন আমবাড়ি দশধার পাকা রোড থেকে সাতপাকের ভিটা প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের আবেদন করি। আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাহী প্রকৌশলী পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢাকায় প্রেরণ করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড উক্ত প্রকল্পটি “নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলাধীন আমবাড়ি দশধার পাকা রোড থেকে সাতপাকের ভিটা প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ” মেরামত ও সংরক্ষন কাজের জন্য অর্থ কোড-৩২৫৮১৩৭ এর অনুকূলে প্রকল্প ওয়ারী বরাদ্দ প্রদান করা হয় । নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসক রেজুলেশান মূলে উক্ত প্রকল্প গুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণকে দায়িত্ব অর্পন করেন। কাবিটা কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ কাজের পিআইসি কমিটি আবেদন জমা নেন এবং আমি ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি জমা করি। সার্ভেয়ার ইঞ্জিনিয়ার প্রকল্পটি সরজমিনে কাজের পরিমাপ করে এবং ইস্টিমিট করে। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলীর গাফিলতির কারণে প্রকল্পটি শুরু করতে পারিনি। বরাদ্দ দেওয়ার পরেও নির্বাহী প্রকৌশলী কাজগুলো করার অনুমোদন দেননি। যদি ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হয় তবে এলাকাটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হবে।
এদিকে আমবাড়ি দশধার পাকা রোড হইতে সাতপাকের ভিটা প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত ফসল রক্ষা বাঁধটি সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্থানীয় কৃষকদের হাজার হাজার হেক্টর আবাদী জমির ফসল বাঁধটি জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার না করা হলে পাহাড়ি ঢল কিংবা বৃষ্টিপাতে তলিয়ে যাবে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
অন্যদিকে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে নেত্রকোণার জেলা প্রশাসকের কাছে জানতে চাইলে তিনি মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল পৌনে চারটা নাগাদ জানান, ইতিমধ্যেই কলমাকান্দার ইউএনওকে (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে যথাযথ পদক্ষেপ নিব।