বিশেষ প্রতিনিধি | রংপুর
রংপুরে রুনা লায়লা নামের এক নারীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়জনিত নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের বরাতে জানা যায়, অভিযুক্ত রুনা লায়লার গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলা এলাকায়। তিনি বিভিন্ন সময় নিজেকে ব্র্যাক, আরডিআরএসসহ একাধিক এনজিওর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন—এমন অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রমতে, ব্যক্তিগত জীবনে তার একাধিক পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ উঠে আসার পর তার স্বামী তাকে পরিত্যাগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার দুই সন্তানকে ব্যবহার করে স্বামীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে লক্ষাধিক টাকা আদায় করেছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত নারীর মূল টার্গেট থাকেন বিত্তবান পুরুষরা। নিজেকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও প্রভাবশালী এনজিও কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করে প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করাই ছিল তার প্রতারণার কৌশল—এমনটাই অভিযোগ।
আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের পরিবার ও প্রকৃত স্বামীর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় পুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে পরিবারগুলো দীর্ঘদিন নীরব থাকতে বাধ্য হয় বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক কয়েক বছর ধরে তিনি বোরখা পরিধান করে চলাফেরা করলেও গোপনে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক পরকীয়া সম্পর্কের কথিত প্রমাণও সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।
আরও গুরুতর অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় পীরগাছা এলাকায় জমি দখলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের বাসা থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে আত্মসাৎ করার অভিযোগও করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলনের সময়, অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে আন্দোলনকারীদের তথ্য গোপনে ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে অভিযুক্ত রুনা লায়লা রংপুর নগরীর খাসবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। ইতোমধ্যে ছায়া তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কিছু আলামতও পাওয়া গেছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে অভিযুক্ত নারীর স্বামীসহ একাধিক ভুক্তভোগী দাবি জানিয়েছেন, রুনা লায়লার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে তাকে যথাযথ আইনের আওতায় আনা হোক।