: ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা
বাংলাদেশের রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেশের গণতান্ত্রিক ও আইনি কাঠামোর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন বিদেশে পলাতক থাকা প্রভাবশালী নেতারা যখন দেশে ফিরে রাজকীয় মর্যাদা ও বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন, তখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে—আইনের শাসন কি ক্ষমতা ও প্রভাবের কাছে পরাজিত হয়ে গেছে? এটি শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার ওপর এক তীব্র আঘাত, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা এবং অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি হলো—সব নাগরিক সমান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রভাব কাজ করবে না। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাশালী পলাতকরা রাজকীয় অভ্যর্থনা পাচ্ছেন, আর সাধারণ নাগরিক বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশূন্যরা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি স্পষ্ট বার্তা পাঠাচ্ছে—দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার থাকলে আইনও সীমাহীন হতে পারে।
বিগত দিনে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরেন। তার প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত ঘটনা নয়; এটি রাজনৈতিক সংকেত, যা গণতান্ত্রিক নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অসংখ্য রাজনৈতিক নেতা বিদেশে অবস্থানকালে দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন, এবং এখন নানা প্রভাব খাটিয়ে দেশে ফিরে রাজনৈতিক ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের রাজনীতি কেবল আইন প্রয়োগ ও নৈতিকতার ব্যর্থতা নয়; এটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সংকেত, যা সাধারণ মানুষকে হতাশ করে এবং সমাজে অনিয়মকে উৎসাহিত করে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” ঘোষণা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। রাজনীতির স্বার্থে, ক্ষমতা বা পরিচয় দিয়ে ন্যায়বিচারের পথ বন্ধ হলে এটি গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। আজ যদি একজন পলাতক নির্বিঘ্নে ফিরে আসে, আগামীকাল অনেকে আর ভয় পাবে না—এটাই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকনির্দেশ।
রাষ্ট্র এখনই দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেবে না, তাহলে শুধু বর্তমান সংকটই নয়—বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ন্যায়বিচার ও আইনপ্রয়োগে কোনো আপস করা মানে গণতন্ত্রের প্রতি প্রতারণা, আর জনগণের আস্থা হারানো। এখনই সময় আইনের শাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার। রাজনীতি ও সমঝোতার নামে অপরাধীদের পুনর্বাসন হলে তা শুধু বর্তমানকে নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অশনি সংকেত হয়ে থাকবে।