স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
বোয়ালখালীতে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে রাতভর অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় মো. খোকন নামের এক অবৈধ মাটি বিক্রেতাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গত ৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা।
উপজেলার আমুচিয়ার কানুনগোপাড়া, সারোয়াতলীর বেঙ্গুরা, কঞ্জুরী, পোপাদিয়া বিদগ্রাম, কুঞ্জুরি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনে উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটার লোকজন পালিয়ে যায়। অভিযানে উপজেলার বিদগ্রাম এলাকার জমির টপসয়েল কাটার সময় একটি ভেকু জব্দ করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা বলেন, ইউএনও স্যারের নেতৃত্বে রাত ১২টা থেকে একাধিক অভিযোগ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলে বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা পর্যন্ত।
পরে জব্দকৃত ভেকুর ব্যবহারকারী পোপাদিয়ার মুন্সি মিয়ার ছেলে মো. খোকন অবৈধভাবে মাটি কাটার দায় স্বীকার করায় তাকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৭ খ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, অভিযোগ ছিলো রাত ১০টার পর থেকে অবৈধভাবে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা হয়। তাই রাতব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযান জনস্বার্থে অব্যাহত থাকবে।
ইউএনও আরও বলেন, যারা রাস্তা-ঘাট, কৃষি জমি নষ্ট করে জনগণের ক্ষতি করছে তারা কোনো অবস্থায় ভালো মানুষ হতে পারে না। অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করতে হবে।
এদিকে বোয়ালখালী উপজেলায় অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করায় বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পরিবেশ, জলবায়ু, কৃষি ও সেবামূলক সংগঠন গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স। সংগঠনের সভাপতি স ম জিয়াউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এমরান বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে টপসয়েল ও মাটি কাটা হলেও প্রশাসন নীরব ছিল, যার ফলে বেপরোয়া হয়ে ওঠে এসব মাটিখেকো চক্র। এ অভিযানের ফলে আশা করা যায়, কিছু টা প্রভাব পরবে।
তারা আরও বলেন, শুধু বোয়ালখালী উপজেলা নয়, চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় এভাবেই অবাধে চাষাবাদের জমি নষ্ট করে টপসয়েল ও মাটি কাটা হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি মাটি কাটার উৎসব চলছে রাঙ্গুনিয়া, সাতকানিয়া ও লোহাগড়া উপজেলায়। এ বিষয় নিয়ে তারা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।