গাইবান্ধায় দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা মা-বাবা, কাটছে না ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা।
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
২২ আগস্ট, ২০২৬
প্রতিদিনের সূর্যোদয়ের সঙ্গেই শুরু হয় সংগ্রাম, আর রাত নামলেই মনে চেপে বসে এক অজানা আতঙ্ক—”আমরা না থাকলে কী হবে আমাদের সন্তানদের?” গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের দিনমজুর আমিনুর রহমান ও রনজিদা বেগম দম্পতির দৈনন্দিন জীবন এখন এমনই এক আশঙ্কার নাম। তাদের দুই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলে রফিক মিয়া (১৮) ও রোকন মিয়ার (১৭) ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে অসহায় পরিবারটির।
আমিনুর-রনজিদা দম্পতির সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। দুই সন্তানের গোসল করানো, খাওয়ানো, পোশাক পরানো থেকে শুরু করে সব সময় নজরদারি করতে হয়। এক মুহূর্তের জন্যও তাদের একা রাখা সম্ভব হয় না। ফলে সন্তানদের সার্বক্ষণিক সেবা দিতে গিয়ে উপার্জনের স্বাভাবিক পথ ও সংসারের কাজের সুযোগও তাদের জন্য সীমিত হয়ে গেছে। চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধের খরচ মেটাতে গিয়ে প্রায়ই টাকার অভাবে সন্তানদের চিকিৎসা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন দিনমজুর বাবা।
স্থানীয়রা জানান, মৌলিক চাহিদা পূরণ করতেই পরিবারটি প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে। পর্যাপ্ত সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা না পেলে এই নিঃস্ব পরিবারের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন। রফিক ও রোকনের মা রনজিদা বেগম ও বাবা আমিনুর রহমান আকুতি জানিয়ে বলেন, সন্তানদের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা। সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা পেলে তারা ভবিষ্যতে কিছুটা হলেও স্বাবলম্বী হতে পারবে বলে আশা মা-বাবার।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আল মামুদ জানান, রফিক ও রোকনকে ইতিমধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এনে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। সামনে নতুন কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা এলে তা তাদের দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পরিষদ থেকে ও ব্যক্তিগতভাবে ওই পরিবারটিকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
তবে কেবল ভাতা নয়, প্রতিবন্ধী দুই ভাইয়ের চিকিৎসা ও ভবিষ্যতে বেঁচে থাকার জন্য দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করতে বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের আকুল প্রার্থনা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মা-বাবা।