মোঃ মিঠু মিয়া
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৫নং বল্লমঝার ইউনিয়নের তুলসীঘাট ৮নং ওয়ার্ডের কোমরপুর হিন্দু পাড়ায় শ্রী মিতু রানী (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
নিহত মিতু রানী শ্রী দুলাল চন্দ্র ও মলি রানীর মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। চিঠিতে তিনি লেখেন—
অকারণে অনেক মারধর করেছ তুমি আমাকে। বিষ্ণু আর নয় পৃথিবীর সমস্ত মুখ তোমাকে দিয়ে গেলাম। শুধুই ভেসে গেলাম। আমার শেষ উপহার আমার (সোনার তরী) যাকে আমি মানুষ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু শুধু,
পরিবারের দাবি, স্বামী শ্রী রিপন চন্দ্র সরকার, শ্বশুর শ্রী রনজিৎ কুমার সরকার ও শাশুড়ি শ্রী উষা রানী সরকার তাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে স্বজনরা শ্মশানে নিয়ে সৎকার সম্পন্ন করেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।