“গজারিয়ায় রুগ্ন ও বয়স্ক ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস হিসাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করার অপরাধে ০৪ জন আসামী গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিং”
মোঃ দুলাল সরকার,বাংলার সংবাদ।
গজারিয়ায় গত ইং ০৮/০৪/২০২৫ তারিখ সকালে সংবাদ পাওয়া যায় যে, মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানাধীন আনারপুরা এলাকায় কতিপয় লোক কিছু রুগ্ন ও বয়স্ক ঘোড়া জবাই করতেছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় লোকজনসহ গজারিয়া থানা পুলিশ উপস্থিত হলে অপরাধীরা পালিয়ে যায়। থানা পুলিশ জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস জব্দপূর্বক প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার হেফাজতে প্রদান করে। এ ঘটনায় স্থানীয় আল-আমিন শিকদার নামক এক ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে গজারিয়া থানার মামলা নম্বর-৯, তারিখ-০৮/০৪/২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রুজু করা হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ সুপার, মুন্সীগঞ্জ জনাব মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ফিরোজ কবির (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), মুন্সীগঞ্জ এর তদারকিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জদের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) পলাশ কান্তি রায় ও সঙ্গীয় এসআই (নিঃ) ইয়াকুব হোসেন, গজারিয়া থানার এসআই (নিঃ) মোঃ ফিরোজ ও ফোর্সের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস টিম তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষন করে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানাসহ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টংগী পূর্ব থানা ও বাসন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গত ইং ০৯/০৪/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ০৭.০০ ঘটিকার সময় ঘটনার সহিত জড়িত আসামী ০১। মোঃ রুবেল (৩৯), পিতা-মৃত, আব্দুল রশিদ, মাতা-মরিয়ম বেগম, সাং-মহিষমারি খানবাড়ী, থানা-কালকিনি, জেলা-মাদারীপুর, এ/পি সাং-দিঘীর ছালা, (নুরুর বাড়ীর ভাড়াটিয়া) থানা- বাসন, জিএমপি, গাজীপুর। ০২। মোঃ সৌরভ (২১), পিতা-জাহেদ, মাতা-শিরিন বেগম, সাং-উপ শেরপুর এলাকা, থানা ও জেলা-নওগাঁ এ/পি সাং-দত্তপাড়া (এরশাদ নগর ০৪ নং ব্লক সংলগ্ন আইয়ুব খানের বাড়ীর ভাড়াটিয়া) থানা- টংগী পূর্ব, জিএমপি, গাজীপুর ০৩। মোঃ সোহেল গাজী (২১), পিতা-মোঃ কামাল গাজী, মাতা-জাহানারা বেগম, সাং-এরশাদ নগর ০৭ নং ব্লক, থানা- টংগী পূর্ব, জিএমপি, গাজীপুর ও ০৪। মোঃ ইয়াছিন আরাফাত (২১), পিতা-মোঃ মজনু, মাতা-পলি বেগম, সাং-এরশাদ নগর ০৪ নং ব্লক, লেদু মোল্লা রোড, থানা- টংগী পূর্ব, জিএমপি, গাজীপুরদের গ্রেফতার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানায় তারাসহ ঢাকার আরো কয়েক জন মিলে দীর্ঘদিন যাবৎ গজারিয়াসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে যমুনার চরাঞ্চলে গিয়ে রুগ্ন ও বয়স্ক ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাত করে পিকআপযোগে ঢাকায় বসবাসকারী তাদের অন্যান্য সহযোগীদের কাছে পৌঁছে দেয়। এই মাংস তারা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রয় করে থাকে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকৃত মালামাল:
১. ০৯ (নয়) টি জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস ও একটি জীবিত অসুস্থ ঘোড়া।