খুলনার তেরখাদায় জমি বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী জাহিদ বাহিনীর অত্যাচারে—আতঙ্কে এলাকাবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার তেরখাদা উপজেলা এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলা, মারধর, গুরুতর জখম ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার আজগড়া ইউনিয়নের শেখপুরা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী লাভাক শেখ তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, পূর্ব শত্রুতা ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার পথরোধ করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং হামলার সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, হামলায় গুরুতর আহতদের মধ্যে লাজুক শেখের ছেলে মেহেরাব নামের এক যুবকও রয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত জাহিদ শেখের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে, যার কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগে বলা হয়, হামলার সময় অভিযুক্তরা বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহণ এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে তেরখাদা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলে পুলিশ প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) রুজু করে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি আদালতে প্রেরণ করে।
মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে শেখপুরা গ্রামের দাহিদ শেখ (৪৪), শহিদুল শেখ (৫০), মাহাবুর শেখ (৫৪), অহিদ শেখ (৩৬), ডামি শেখ (২২), শফিকুল শেখ (৩০), সাহাবুর শেখ (২৭) ও ইজাবুর শেখ (২৩)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির একাধিক ধারা—বেআইনি সমাবেশ, পথরোধ, মারধর, গুরুতর জখম, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল খুলনা জেলার তেরখাদা থানার প্রায় ১১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এবং মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলী ইমরাজ, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) খুলনা জেলার একজন নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীল, বলেন—এ ধরনের সহিংস ঘটনা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি। তিনি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।