রফিকুল ইসলাম রফিক কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ও উলিপুর উপজেলা পৃথক ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, বিষপানে গৃহবধূর মৃত্যু এবং নদীতে ডুবে এক কৃষকের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
বুধবার সকালে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের চরধাউরা এলাকায় দুধকুমার নদ তীরবর্তী একটি গাছ থেকে প্রায় ৬০ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
এদিকে মঙ্গলবার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদ এর স্রোতে ডুবে মারা যান তৈয়ব আলী (৫৫) নামে এক প্রান্তিক কৃষক। স্থানীয়রা জানান, গরু চরাতে গিয়ে নদীর একটি চ্যানেল পার হওয়ার সময় তিনি স্রোতে তলিয়ে যান।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “ঘটনাটি নৌ পুলিশকে জানানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
অন্যদিকে উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের বড় সরদারপাড়া গ্রামে কুলসুম বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাকে মারধর করে জোরপূর্বক বিষপান করানো হয়েছে। তবে পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক তথ্যে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির রান্নাঘরে সংরক্ষিত জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক পান করেন কুলসুম বেগম। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি পৃথক ঘটনায় আইনানুগ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।