হাকিকুল ইসলাম।
অদৃশ্যের শক্তির ক্ষমতা বলে জীবন্ত একটি বিন্দু কণা থেকে সৃষ্ট। চলমান একটি জীবনের কায়া বদল হয়ে, পুনরায় জীবন দানে যেমনি, উড়ন্ত প্রজাপতি কিংবা ফড়িং অথবা জোনাকি পোকার পূর্ণজনম হয়।
তেমনি হয়তোবা মানব দেহ থেকে দৃষ্টি এড়িয়ে আত্মা কোনো গন্তব্যে অদৃশ্য হয়ে যায়। এবং পুনরায় হয়তো আবার অন্য মাধ্যমে জীবন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যায়। যদি তা বহাল থাকে? যেহেতু পূর্ণউত্থানের উল্লেখ রয়েছে।
এক্ষেত্রে এক জীবনের ধারাবাহিকতার স্মৃতি কিংবা কার্যক্রমের পুরোধা হয়তোবা আরেক জীবনে স্মরণে এসে বিচরণ করা হয়তো সম্ভব হবে না বলে ধারণা করা হয়। যেমনটি স্বপ্নের মাঝে ভাসমান অবস্থায় হয়ে থাকে।
আসলেও কি মৃত্যুর পরে জীবন শেষে পুনরায় সকল কিছু স্মরণে আসবে? এক জীবনের চলার পথের স্মৃতিচারণের উপলব্ধি কিংবা অনুভূতির কার্যক্রমের পদচারণার আত্ম তৃপ্তি কিংবা মনোকামনার জাগ্রত চিন্তা চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে? মনেতো হয়না? হয়তোবা এ কখনো সম্ভবও নয়।
শারীরিক পরিবর্তন অথবা কায়া বদল। কোনো জীবের হয়তো দৃশ্যমান, আবার কোনোটা হয়তো স্থানান্তর কিংবা পরিবর্তনশীল অদৃশ্যে বিরাজমান। অথবা স্মরণ বিহীন নতুন ধারায় অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা বলে চলমান প্রক্রিয়া।
কারো সাধ্য কি আছে এ রহস্যভেদ জানার কিংবা এ সত্য আবিষ্কারের? অথবা উপলব্ধি কিংবা অনুধাবন করার?
অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা বলে সৃষ্ট একটি ছোট্ট তরল কণা থেকে মানব জীবনের উৎপত্তি হয়। যা- তাপ, পানি, বাতাস ও মাটি এবং বিভিন্ন পদার্থের সংমিশ্রণে খাদ্য রসের রক্তে মাংসে মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নানাবিধ প্রণালীর সমন্বয়ে দেহের গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সে এক অজানা এবং অদেখা ও অদৃশ্য শক্তির আত্মা নামের জীবনীশক্তি দেহের ভেতরে অবস্থানরত জীবন প্রবাহ। তা- ধরা কিংবা ছোঁয়ার বাইরে চলমান।
দেহের উৎপত্তি এবং নিষ্পত্তি রয়েছে। কিন্তু আত্মার উৎপত্তি অদৃশ্য এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে জীবন প্রবাহের চলমান ধারায় বহমান এবং সময়ের ব্যবধানে দেহ ত্যাগের বিনিময়ে কোথায় তাঁর অবতরণ অথবা গন্তব্য স্থল। সে অজানা রয়ে যায়।
সেকি আদৌও জানা সম্ভব বলে মনে হয়? নিশ্চয়ই না। সে-যে খুবই দূরহ ব্যাপার এবং অসাধ্য বলে প্রতীয়মান হয়। তা- শুধু স্বপ্ন সাধনা এবং কল্পনার জগতের রহস্যেঘেরা চিন্তা চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
বাস্তবতার নিরিখে তা-ধরা কিংবা জানা অথবা দেখা সম্ভব নয়। এটাই চিরন্তন সত্য। এখানেই বান্দা অপারগ। কিছুই করার নেই। শুধু আসা আর যাওয়ার মাঝে জীবন অতিবাহিত করা। এর বাহিরে কিছুই করার নেই।