বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন
Headline :
খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর সাথে খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এনটিআরসিএ কি একটি অর্থ উপার্জনকারী প্রতিষ্ঠান? নিবন্ধনে উত্তীর্ণদের আগে নিয়োগ দিন। ক্ষুদ্রঋণ খাতকে ধ্বংস করার প্রস্তাবিত ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ–২০২৫’ বাতিল করতে হবে। শ্রমিক স্বার্থবিরোধী প্রস্তাবনাগুলো সংশোধন করে বিল পাস করুন- আব্দুল কাদের হাওলাদার। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১৫০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার। চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রকৃতির তা’ণ্ডব শিলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা। দিনাজপুর বীরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত। বালিয়াকান্দিতে ডিলারের কাছ থেকে তেল পাচ্ছেন না সাব-ডিলাররা, বাজারে ভোগান্তি চরমে। রাজাপুরে বিশেষ শিক্ষার্থী ও বিশেষ মানুষ হতেচায় প্রতিবন্ধী সানিয়া।

এনটিআরসিএ কি একটি অর্থ উপার্জনকারী প্রতিষ্ঠান? নিবন্ধনে উত্তীর্ণদের আগে নিয়োগ দিন।

Reporter Name / ২ Time View
Update : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা:   ১৮তম সনদধারী সকল প্রার্থীকে দ্রত সময়ের মধ্যে শূন্য পদ যুক্ত করে সরাসরি সুপারিশ/৭ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগের আওতায় নিয়ে আসার এই বিষয়টিকে সামনে রেখে আজ ৭ এপ্রিল, ২০২৬ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকায় ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ বঞ্চিত প্রার্থীরা এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করেন। শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন শিরিনা আক্তার,  মুনিয়া তাসনিম, খোরশেদ আলম, মেহেদী হাসান, নিপা আক্তার সহ আরো শতাধিক শিক্ষার্থী।

উক্ত মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রায় ১৯ লক্ষ প্রতিযোগীর মধ্যে প্রত্যেক প্রার্থী পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রেখে মাত্র ৩.২৪ % প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে মাত্র ৬ হাজার (প্রায়) প্রার্থী সুপারিশ বঞ্চিত থেকে যায়। এর পিছনে কারন হিসাবে ছিল এনটিআরসিএ প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ট শূন্য পদ যুক্ত না করা।
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে শুরু হতে যাচ্ছে এবং সেখানে লিখিত পরীক্ষার মত একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়নের অংশ “যেটা কিনা একটি শিক্ষকের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা যাচাইয়ের অন্যতম সেরা পদ্ধতি” বাদ দেওয়া হচ্ছে। তার পরিবর্তে শুধুমাত্র “এমসিকিউ এবং ভাইভা” এর পদ্ধতিতে নিয়োগ দেওয়া হবে যার ফলে আমাদের নিয়োগের বিষয়টা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষই ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় আমাদেরকে সর্বোচ্চ মেধার যাচাই করে শিক্ষক হিসাবে যোগ্যতার সনদ প্রদান করে এবং তারাই আমাদেরকে নিয়োগ বঞ্চিত রেখে পুনরায় বিপুল অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি শুরু করতে চায় মূলত এটা কি তাহলে একটি অর্থ উপার্জনকারী প্রতিষ্ঠান? আমরা আর রাজপথে থাকতে চাইনা শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যেতে চাই।

একটি প্রসিদ্ধ তথ্য হচ্ছে যে, এনটিআরসিএ ইতিপূর্বে ৬০ হাজার জাল সদন বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে। আজ সে সকল ভুয়া শিক্ষক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত সনাক্ত হচ্ছে। এটি কি এমন নয় যে, এনটিআরসিএ অন্ধের হাতে অর্থলোভে জ্ঞানের বাতি দিয়ে এ জাতিকে আলোকিত করার পরিবর্তে জালিয়ে মারার রাস্তা খুলে দিয়েছে। অথচ আমাদেরকে সর্বোচ্চ মেধার প্রমাণ হিসাবে সনদ দিয়েও রাস্তায় রাস্তায় ঘুরিয়ে হাজার পরিবারের স্বপ্নকে দাফন করে দিচ্ছে।

এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ ইতিপূর্বে তিন বছরের অগ্রিম শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করে রেখেছে।
আমাদের নিয়োগের বিষয়টি যেভাবে সহজতর করা সম্ভবঃ নব সৃষ্ট পদ, শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত শূন্য পদ, নতুন এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের পদ এবং অবসরের ফলে সৃষ্ট পদ যুক্ত করার মাধ্যমে।
আমাদের প্রত্যাশিত দুটি দাবি ঃ
১। ১৮তম সনদধারী সকল প্রার্থীকে দ্রত সময়ের মধ্যে শূন্য পদ যুক্ত করে সরাসরি সুপারিশ/৭ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
২। নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের পূর্বে চুড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীদের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে শূন্যপদে নিয়োগ দিতে হবে।
আপনারা জানেন, সারা দেশে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার অশিক্ষক সনাক্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত, যারা শিক্ষক নিবন্ধন ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল করে বিগত দেড় যুগেরও বেশি সময় থেকে বিশেষ সুবিধা কোটায় শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যার ফলশ্রæতিতে পূর্বের ন্যায় সকল বোর্ডের পাশের হারের প্রতিযোগিতার খামার আর অথর্ব তলাবিহীন ঝুড়ির মত অ+ এর বাম্পার ফলন বন্ধ করে ৫ আগষ্টের পরেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে আশংকাজনক বিপর্যয় নেমেছে।

এছাড়াও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তীব্র শিক্ষক সংকট এবং গেস্ট টিচারের মাধ্যমে পাঠদান করা হচ্ছে। অথচ আমরা রাষ্ট্র কর্তৃক শিক্ষকতা পেশার জন্য যাচাইকৃত যোগ্য শিক্ষক আজ সুপারিশ বঞ্চিত থেকে পথে পথে ঘুরছি। এটা রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল নীতি নির্ধারকদের জন্য চরম অপমানজনক বিষয় বলে আমরা মনে করি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত লক্ষাধিক শিক্ষক পদ শূন্য থাকা সত্তে¡ও প্রায় ১৯ লক্ষ প্রতিযোগীকে টপকে সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রেখেও আমরা ৬ হাজার প্রার্থী সুপারিশ বঞ্চিত থেকে যাই এবং আমরা প্রচন্ড হতাশা, মানসিক চাপ সহ পারিবারিক ও সামাজিক নিগ্রহের শিকার। যেহেতু নতুন পদ্ধতিতে ১৯ তম পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রদান করা হবে সুতরাং ১৮ তম নিয়োগ বঞ্চিত মাত্র ৬ হাজার প্রার্থীকে সরাসরি সুপারিশ/৭ম গণবিজ্ঞপ্তি-২/৯ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ সহ জোর দাবি জানাচ্ছি।
আমরা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষক নিয়োগ সংশ্লিষ্ট সকল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো আমাদের যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ প্রদান করে শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ করে দিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category