নিজস্ব প্রতিবেদক,
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রের ডিপুটি ডিরেক্টর (যোগাযোগ) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মন। সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদ সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে তার নিয়োগ নিশ্চিত করে জানায়, মানবাধিকার সংরক্ষণ, আইনি সহায়তা, গণমাধ্যমের সাথে সুদৃঢ় যোগাযোগ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তার দীর্ঘদিনের সক্রিয় ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মন এর আগে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও গণমাধ্যম–সম্পৃক্ত কাজের মাধ্যমে নির্যাতিত, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া, ভুক্তভোগীদের তথ্য যাচাই, প্রাথমিক সহায়তা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানে তিনি পরিচিত একটি নাম। নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় তার ওপর জনগণের প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে।
সংগঠনটি জানায়, মানবাধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কাজ করাই তাদের উদ্দেশ্য। জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার সনদ, আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ, নির্যাতনবিরোধী সনদ, নারী ও শিশুর অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং বাংলাদেশ সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য হলো, যেকোনো ধরনের দমন-পীড়ন, নির্যাতন, অবৈধ আটক, জোরপূর্বক গুম, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘন এবং সামাজিক বৈষম্য প্রতিরোধে সক্রিয় নজরদারি বজায় রাখা। অভিযোগ পাওয়ার পর তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও সুপারিশ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা, মনোসামাজিক সমর্থন এবং প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সংগঠনটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। পারিবারিক, সামাজিক, স্থানীয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক যেকোনো ধরনের বিরোধের ক্ষেত্রে আলোচনা, মধ্যস্থতা, সালিশি এবং আইনি নির্দেশনার মাধ্যমে ন্যায়সংগত সমাধান নিশ্চিত করা হয়। সংগঠনের বিশেষজ্ঞ প্যানেল প্রতিটি পক্ষের অধিকার বিবেচনা করে সমাধান প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন, যাতে উভয় পক্ষই সুষ্ঠুভাবে সমস্যা নিরসন করতে পারেন।
আইনি সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র, অসহায়, নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়। মামলা পরিচালনা, অভিযোগপত্র প্রস্তুত, আইনি পরামর্শ, আদালতে প্রতিনিধিত্ব এবং মানবাধিকার–সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রস্তুত করা—সবই সংগঠনের সেবার অন্তর্ভুক্ত। এর পাশাপাশি মানবাধিকার বিষয়ে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আলোচনা সভা, সেমিনার এবং গবেষণা প্রকাশনা পরিচালনা করা হয়।
গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মনকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরা, সাংবাদিকদের সাথে সমন্বয়, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ ও যাচাই, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবেন। তার কাজ হবে সংগঠনের পুরো কার্যক্রমকে জনসম্মুখে তুলে ধরার পাশাপাশি মানবাধিকার বিষয়ক তথ্য পুরোপুরি স্বচ্ছভাবে প্রচার করা।
দায়িত্ব পাওয়ার পর বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মন বলেন,
“মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা শুধু একটি দায়িত্ব নয়, এটি মানবতার প্রতি একটি অঙ্গীকার। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—যে কোনো অন্যায়, নির্যাতন বা বৈষম্যের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে কাজ করব। প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, নতুন ডিপুটি ডিরেক্টর (যোগাযোগ) দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনের যোগাযোগ, গণমাধ্যম সমন্বয়, মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ এবং আইনি সহায়তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মানবাধিকার মনিটরিং সেল গঠন, নারী ও শিশুর জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স, মানবাধিকার হেল্পলাইন চালু, ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
মানবাধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক শান্তি নিশ্চিত করতে সংগঠনটি আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে চায়। বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মনের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ সেই আশাকেই আরও দৃঢ় করেছে।