কালীগঞ্জে সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
উপসম্পাদক দৈনিক বাংলার সংবাদ :
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সেবা কার্যক্রম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান, বাস্তবায়ন এবং বরাদ্দের অর্থ ব্যয় নিয়ে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রকল্পের কাজ বাস্তবে কতটুকু হয়েছে এবং বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি বা অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্রভাবে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী বা অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
পূর্বেও উঠেছিল অনিয়মের অভিযোগ
কালীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অতীতেও অনিয়মের অভিযোগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ২০১৪ সালে তৎকালীন কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নভেন্দু নারায়ণসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরকারি জিআর চাল সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে দুদক মামলা করে বলে সে সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে ওই পুরোনো মামলার বিষয়কে বর্তমান সময়ের কোনো কর্মকর্তা বা বর্তমান প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করার সুযোগ নেই। বর্তমান অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে পৃথকভাবে নথি ও প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন।
নথি যাচাইয়ের দাবি
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, কালীগঞ্জ উপজেলার চলমান ও সাম্প্রতিক সরকারি প্রকল্পগুলোর—
– প্রকল্পের নাম ও অনুমোদিত বরাদ্দ;
– প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান;
– কাজের নির্ধারিত পরিমাণ;
– প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি;
– বিল-ভাউচার ও অর্থ ব্যয়ের হিসাব;
– সংশ্লিষ্ট পরিদর্শন প্রতিবেদন
পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগের সত্যতা সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। তাদের বক্তব্য প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরার সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সংস্করণে সংযোজন করা হবে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তা পরিষ্কারভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হোক।
জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন হয়েছে কি না—তা নিশ্চিত করাই মূল বিষয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রতিবেদকের মন্তব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো অভিযোগ ও প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আদালত কর্তৃক অপরাধী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।