রংপুরে চার খুন
ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি নাগরিক কমিটির।
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
রংপুর নগরীর দাসপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে খুন করার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে মহানগর নাগরিক কমিটি। শনিবার দুপুরে নগরীর প্রেসক্লাবের পাশে একটি কম্যুনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি করা হয়। এসময় নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশের দেওয়া পৃথক বয়ানে তথ্যের গড়মিল ও নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেন। তারা জানান পুলিশ খুনের সময়কাল, স্থান ও খুনের বর্ননা নিয়ে আলাদা আলাদা বয়ান দিয়েছে। এ কারনে খুনের কারন ও সকল অপরাধীদের চিহ্নিতকরণ নিয়ে পুলিশের তদন্তে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন রংপুরবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ। তিনি বলেন, ‘পুলিশ প্রথম বয়ানে বলেছে ছাদে ইয়াবা সেবনের শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়েছিলেন কিন্তু দ্বিতীয় বয়ানে জানানো হয় তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে ছাদে গিয়েছিলেন হাঁটাহাঁটির জন্য। প্রথম বয়ানে খুনের সময়কাল বলা হয় শুক্রবার রাত তিনটা আর দ্বিতীয় বয়ানে বলা হয় শুক্রবার সকাল।’
তিনি বলেন,’ প্রথম বয়ানে পুলিশ জানায় ছাদে শুধু গণপতিকে খুন করা হয় কিন্তু দ্বিতীয় বয়ানে বলা হয় ছাদে গণপতি, তার স্ত্রী ও তাদের মেয়েকে খুন করা হয়। প্রথম বয়ানে তাদের ছেলেকে খাটের ওপর ঘুমন্ত অবস্থায় খুন করার কথা বলা হলেও দ্বিতীয় বয়ানে বলা হয় খুনের সময় ছেরেটি জেগেছিলো।’
পলাশ কান্তি নাগ বলেন,’ পুলিশের তদন্তে আমাদের বিশ্বাস স্থাপন করতে পারছি না। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলে খুনের কারন, সময়কাল ও বর্ণনা সবকিছুই সঠিকভাবে বেরিয়ে আসবে। তাই এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।’
এদিকে মামলার বাদী ও নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তীও এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন,’ পুলিশের বয়ানে আলাদা আলাদা তথ্য আমাদেরকে বিভ্রান্ত করছে। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয তদন্ত হওয়া দরকার।’
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রেস ব্রিফিং করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানান, ‘খুনিরা ঘরের ভেতর গিয়ে গণপতির ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীকে খাটের ওপর দেখতে পায়। এসময় প্রীয়ম খুনিদের একজনকে ‘সিদ্ধার্থ দাদা’ বলে সম্মোধন করে। পরে খাটের ওপরই প্রীয়মকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।’
আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া অভিযুক্ত খুনিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার এসব তথ্য তুলে ধরেছিলেন।
অভিযুক্ত খুনি সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস দাবি করেন,’ আমি ও আমার ভাই গণপতি চক্রবর্তী স্যারকে দাদু বলে ডাকতাম। তার ছেলে প্রীয়ম আমাদেরকে কাকু বলে ডাকতো। আমাদেরকে কখনই দাদা ডাকতো না প্রীয়ম। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে সিদ্ধার্থ কি বলেছে আমি জানি না।’
এলাকার লোকজনও জানায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী গ্রেফতার অভিযুক্ত খুনি সিদ্ধার্থকে ‘কাকু’ বলতে ডাকতো।
অন্যদিকে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন, প্রাক্তন শিক্ষক ও সাধারন মানুষ মানব বন্ধনে করে একই পরিবারের চার খুনের ঘটনাটির বিচার বিভাগীয তদন্তের দাবি করছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি জিন্নাত আলী জানান,’ মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। আমরা কিছু গুরুত্বপুর্ণ তথ্য পেয়েছি। এসব তথ্য গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’
রংপুর নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় ২২ আগষ্ট শনিবার রাত ১১টার দিকে বাড়ীর ভেতর ও ছাদ থেকে রংপুর জিলা স্কুলর সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২১ আগষ্ট শুক্রবার সকালে তাদেরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ একই এলাকার দুই যুবক সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাসকে (২৩) রবিবার ভোরে গ্রেফতার করে।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.