রংপুরে মিয়া গোলাম পরওয়ার
‘শিক্ষক পরিবার হত্যাকাণ্ডের সঠিক ক্লু বের করতে ব্যর্থ গোয়েন্দা সংস্থা’।
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং সঠিক ক্লু বের করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনো ব্যর্থ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “একটি শিক্ষিত, ভদ্র পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হলো। সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে গোয়েন্দা সংস্থার পেছনে। বিগত দিনে একজন নিরীহ, মামলা নেই, কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই—এমন মানুষকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তুলে এনে ক্রসফায়ারে দিয়েছে। অথচ এমন একটি হত্যাকাণ্ড ঘটল, আজও এর সঠিক ক্লু বের করা গেল না।”
তিনি বলেন, “গোয়েন্দা সংস্থা হত্যাকাণ্ডের সঠিক ক্লু বের করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও গণমাধ্যম—কারও কথার সঙ্গে কারও কথার মিল নেই।”
হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়াকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “হত্যাকাণ্ডের ধোঁয়াশা এখনো কাটছে না। এটি আমাদের উদ্বেগের বিষয়। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়?”
সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের দিয়ে প্রকৃত তথ্য জাতিকে জানার মতো কিছু উদ্ঘাটন করতে পেরেছে—এমন কথা গণমাধ্যম বলতে পারেনি।”
তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও সহানুভূতি জানিয়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন এবং প্রকৃত জড়িতদের খুঁজে বের করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছেন তিনি।
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার দাবি, এ সময়ে দেশে প্রায় সাড়ে ৫০০ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং জনদুর্ভোগ বেড়েছে।
তিনি বলেন, “জনদুর্ভোগের শেষ নেই। উত্তরবঙ্গে সারের সংকট চলছে। বেশি দাম দিয়েও সার পাওয়া যাচ্ছে না। লোডশেডিং চরমে উঠেছে। গ্যাস ও জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে। এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সব কিছুর দায় সরকারের।”
তিনি সরকারের প্রতি জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং জনজীবনে স্বস্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকজনকে পদায়ন করা হয়েছে’
সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দায়িত্বে আসার পর সরকার সংশ্লিষ্টরা দলীয়করণ থেকে দূরে থাকতে পারেননি।
তার অভিযোগ, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাদের পদায়ন করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ এবং দেশের আটটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও বিএনপির দলীয় লোকজনকে পদায়ন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
“আমরা এমন কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। নির্বাচন দেন। এতে দলীয় লোকজন নির্বাচিত হয়ে এলে আসবে। স্লোগান দেন—সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু সিদ্ধান্ত বলে দিচ্ছে, সবার আগে বিএনপি,” বলেন তিনি।
‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাকে ১,৩০০ ভোটে হারানো হয়েছে’
নির্বাচনে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক হলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
তিনি বলেন, “নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকে। আমাকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ১,৩০০ ভোটে হারানো হয়েছে।”
বিএনপির পরাজিত নেতাদের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব প্রশাসক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন শাসনব্যবস্থা তৈরি করছেন, যাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
সংরক্ষিত নারী এমপি নিয়েও প্রশ্ন
সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকার এমপি নন। সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী জনগণের দেখাশোনা, উন্নয়ন ও বরাদ্দ-সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নির্বাচিত সংসদ সদস্যের।
“বর্তমান সরকার অতীতের সব রেওয়াজ ভঙ্গ করে দলীয় সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন আসন তদারকির জন্য ভাগ করে দিয়েছে। এটি কি বেআইনি কাজ নয়?”—প্রশ্ন রাখেন তিনি।
তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়ন ও বরাদ্দ দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করানো যেতে পারে। কিন্তু একটি নির্বাচিত এমপির ওপর শাসন করার জন্য একজন অনির্বাচিত এমপিকে খবরদারির দায়িত্ব দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
“এমনটাই যদি চান, তাহলে বিরোধী দলের মহিলা সংসদ সদস্যকে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের আসনে তদারকির দায়িত্ব দেন,” বলেন তিনি।
‘গণভোটের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি’
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গণভোটের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, সরকারপ্রধান নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
“আমরা ধারাবাহিকভাবে রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছি। আগামীতে বৃহত্তর কর্মসূচি পালন করা হবে,” বলেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক কাজল, ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সামসুল আলমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.