১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে
কুড়িগ্রামে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
২-৯+২০২৬
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কুড়িগ্রামে চার জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তারা বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত, ঘটনার তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘ভুক্তভোগী মাজলুম পরিবার’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন তৈয়ব আলী, নোমান বিল্লাহ, মাহফুজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, রুহুল আমীন ও মোসলেমা বেগমসহ অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম, জামায়াতের রোকন আব্দুস সালাম সুজা এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের বায়তুল মাল সদস্য রফিকুল ইসলাম ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে কুড়িগ্রামের প্রায় ১৫০ জন জামায়াত সদস্যের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ তো দেওয়া হয়নি, এমনকি তাদের মূলধনও ফেরত দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বরের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তারা প্রতিকার পাননি। এতে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিষয়টি জামায়াতে ইসলামীর কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আমীরকে জানানো হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আইনি পদক্ষেপের পরিবর্তে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলা হয়। তবে সেই উদ্যোগ সফল না হওয়ায় পরে ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
তাদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিনিয়োগের ১২ কোটি টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে। অন্যথায় ন্যায্য পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চার জামায়াত নেতার একজন শাহজালাল সবুজ। সদ্য পদ স্থগিত হওয়া জামায়াতের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার এই সহকারী সেক্রেটারি বলেন, ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ব্যবসাটি রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত ব্যবসা। ভবিষ্যতে ব্যবসা করার লক্ষ্যে ২০২০ সালে চারজনের মধ্য একটি যৌথ চুক্তি করা হয়েছিল। তবে ওই চুক্তির ভিত্তিতে তারা কোনো ব্যবসা শুরু করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
শাহজালাল সবুজ বলেন, “ওই চুক্তিকে ব্যবহার করে আমাকে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
অভিযুক্ত জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম অবশ্য ভিন্ন দাবি করেন। তিনি বলেন, শাহজালাল সবুজ, আব্দুস সালাম সুজা, রফিকুল ইসলাম ও তিনি—এই চারজন চুক্তির মাধ্যমে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ ব্যবসা শুরু করেন। চুক্তির বাইরে রুহুল আমীন ও মাওলানা জাহিদুল ইসলাম ব্যবসাটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ছয় পরিচালকই ব্যবসা থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। ফলে ব্যবসার লাভ-ক্ষতির দায়ও ছয় পরিচালকের ওপর বর্তায়। ভুক্তভোগীদের আমানত ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি একাধিকবার অন্য পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, চুক্তির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে একক ক্ষমতা দেওয়ায় ব্যাংকের বিভিন্ন চেকে তার স্বাক্ষর রয়েছে। এ কারণে তার একক নামে ৪০টিরও বেশি মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে একটি মামলায় ব্যবসাটির পরিচালকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আমীর আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, চার নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি তারা অবগত এবং এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রফিকুল ইসলাম এর রোকনিয়াত স্থায়ীভাবে স্থগিত করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শাহজালাল সবুজের রোকনিয়াত দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অপর দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তেমনভাবে প্রমাণিত হয়নি।
আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, “ভুক্তভোগীদের পাওনা টাকা ফেরতের বিষয়ে যেকোনো ন্যায়সংগত ও আইনসংগত পদক্ষেপে আমরা তাদের পাশে থাকব।”
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.