হুহু করে বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা
২৪ ঘন্টায় পানি বেড়েছে ৩৮ সেমি
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগ ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
বৃষ্টি আর উজানে ঢলে হুহু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকাগুলোতে নদীর পানি ঢুকছে। এতে অনেক নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকা নদীর পানিতে প্লাবিত হয়েছে। রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধায় তিস্তাপাড়ে বন্যার আশংকা করছেন নদীপাড়ের মানুষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে তবে আগামিকাল রোববার সকালের মধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, শনিবার সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২ মিটার। এ পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় এ পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছিল ৫১ দশমিক ৬৪ মিটার।
অপরদিকে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার সকাল ৯টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ২৫ মিটার যা বিপৎসীমার ২ মিটার নিচে। পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৭ মিটার যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৫৩ মিটার নিচে এবং ব্রিজ পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ দশমিক ৭৯ মিটার। এ পয়েন্টে ধরলা নদীর পানির বিপৎসীমা ২৬ দশমিক ৫ মিটার।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তিস্তার পানি হুহু করে বাড়ছে। গেল ২৪ ঘন্টায় তিস্তার পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোন সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে তিস্তাপাড়ে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। ‘যেহেতু উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসছে তাই তিস্তার পানি বাড়তেই থাকবে। আমরা পরিস্থিতি পযর্বেক্ষণ করছি,’ তিনি বলেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলাসহ অন্যন্য নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে। তবে তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় তিস্তাপাড়ে বন্যা পরিস্থিতির আশংকা দেখা দিয়েছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙনও দেখা দিয়েছে।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকার কৃষক সুলতান মাহমুদ (৬৫) জানান, শনিবার ভোরে তিস্তার পানি তাদের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। পানি আর একটু বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। যেভাবে নদীর পানি বাড়ছে তাতে যেকোন সময় বন্যা হতে পারে।
কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৌলমারী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম (৬০) বলেন, তাদের চরটি নদীর পানিতে ডুবে গেছে। তারা এখনো বাড়িতে অবস্থান করছেন তবে পানি আরেকটু বাড়লে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। গেল কয়েকদিন দিনে বৃষ্টি না হলেও প্রত্যেক রাতেই বৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি হুহু করে আসছে।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চর মহিপুর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন (৬০) জানান, উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসার গতি দেখে মনে হচ্ছে এবার তিস্তাপাড়ে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। খেতে এখন তেমন ফসল নেই। তবে আমন ধানের চারার জন্য কিছু বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।
রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও নদীপাড়ে ভাঙন পরিস্থিতি পযর্বেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, গঙ্গাধর, জিনজিরাম, ঘাঘট নদীপাড়ে আপাতত বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও তিস্তাপাড়ে বন্যার আশংকা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.