সেই তহশীলদারের বদলী,রেজিস্ট্রার খাতা ছেঁড়ার পেছনে রহস্য কি!
০৪-০৭-২০২৬
পাভেল ইসলাম মিমুল নিজস্ব প্রতিবেদক
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেই তহশিলদারের সরকারি রেজিস্ট্রার খাতার পাতা ছেঁড়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় ভিডিওটি।
ঘটনার পরদিন তৎক্ষনাৎ বদলী করা হয় রাজশাহীর সেই তহশিলদার সাইফুল'কে। তাহলে বেআইনি কাজ করা এই তহশীলদারকে সাজা না দিয়ে বা কোন রকম কৈফিয়ত তলব না করে-ই বদলী করার পেছনে কারণ কি ? এর পেছনে কি উর্ধতন কর্তৃপক্ষেররও হাত রয়েছে,নাকি কোন বড় লেনদেন বা কোন ক্ষমতাবান ব্যক্তির চাপ ! ঘটনাটিকে নিয়ে রাজশাহীতে চলছে নানা গুঞ্জন !
অভিযোগ উঠেছে,বোয়ালিয়া ভূমি অফিসে কোনরকম শুনানি না করেই একটি আবেদনের একপাক্ষিক একটি রায় দেয়া হয়। রায়ে অপর পক্ষ আপিল করেন এডিসি রেভিনিউ বরাবর। তাতে রায় স্থগিত করা হয়। এরপর আবারও ১ম পক্ষ আপিল করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) বরাবর।
সেখানে আবারও রায় স্থগিত রেখে শুনানির দিন ধার্য্য করা হয় আগামী ৭ জুলাই। কিন্তু এই মামলা চলাকালীন সময়েই স্থগিত থাকা হোল্ডিং খুলে দেন তহশীলদার সাইফুল। এতে সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়ে প্রশ্ন করলে হোল্ডিং আবার বন্ধ করে দেন সাইফুল এবং ৩টি রেজিষ্ট্রার বইয়ের নির্দেশনা ছিঁড়ে ফেলেন। এতে সাইফুল বলেন,উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশেই তিনি এটা করেছিলেন। তবে তার কর্মকর্তা এসিল্যান্ড রাহাতুল করিম মিজান মৌখিক নির্দেশ'র বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে উর্ধতন কোন কতৃপক্ষ-ই মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে সংবাদ প্রকাশ এবং ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তৎক্ষনাৎ বদলি করা হয়েছে তহশিলদার সাইফুল'কে।
এদিকে,ঐ মামলার ভূক্তভোগী মোছা: রেখা বলেন,
মৃত সুজাউদ্দৌলা'র ওয়ারিশ আসাদুল্লাহ দিং বোয়ালিয়া থানার সপুরা মৌজায় আমাদের ৩৭ কাঠা জমির খারিজ বাতিল চেয়ে এবং সেইসব জমি সহ আরও কিছু জমি তাদের নিজ নামে খারিজ চেয়ে বড়কুঠি এসিল্যান্ড আদালতে (৭৪/১৩/২০২৪-২৫ নং) মিস কেস দায়ের করলে তৎকালীন এসিল্যান্ড রেখা দিং কে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই রাতের আধারে একতরফা শুনানির মাধ্যমে গত বছর ২১ মে তার শেষ কর্ম দিবসে আমার নামের খারিজ বাতিল করেন। তবে তিনি আমার প্রতিপক্ষের নামেও সেসব জমির খারিজ দেননি। আমাদের জানামতে এইসব জমির একটারও আসাদুল্লাহ দিং নামে কোন দলিল নেই। তাই তারা আমার নামে জমির খারিজ বাতিল চেয়ে আবেদন করতে পারেন না। এই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপীল করলে গত ১২ মার্চ সংশ্লিষ্ট উভয়পক্ষের সকল খাজনা খারিজ বাতিল করে সমস্ত জমি আর.এস. মূল হোল্ডিং এ ফেরত প্রদান করা হয়।
আদেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদালতে জমিগুলোর ওপর দেওয়ানি মামলা চলমান থাকায় এমন আদেশ দেন বলে উল্লেখ করেন৷ এই আদেশটি আমার পক্ষে না গেলেও এটি নিরপেক্ষ একটা রায়। উল্লেখ্য,৭৪ মিস কেসে দেওয়ানী আদালতের রায় আমাদের পক্ষে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে জিপি মহোদয় মন্তব্য করেছিলেন। এরপর আমার প্রতিপক্ষ রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) বরাবর আপীল করলে,তিনি গত ৬ মে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদালতের রায়কে স্থগিত করে ৭ জুলাই শুনানীর আদেশ দেন। রায় দেয়ার কয়েকদিনের মধ্যে-ই তিনি বদলি হন।
এদিকে শুনানীর আগেই প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ে আবারো আসাদুল্লাহ দিং তাদের খারিজ আগের অবস্থায় চালু করে নেয়। আসাদুল্লাহ দিং এর দলিলগুলো সব-ই গোজামিলে ভরা। যেমন দলিলগুলোতে অনেক মালিক দাতা হিসেবে অনুপস্থিত এবং জমির মালিক নন এমন অনেক ব্যাক্তি দাতা হিসেবে উপস্থিত। উল্লেখ্য,আমার প্রতিপক্ষের বিভিন্ন মামলায় ২০ টি দলিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমিগুলোর মালিকানা দাবী করেছেন,অথচ কোথাও তারা নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করেননি কোন জমি কোন দলিলের মাধ্যমে তারা অর্জন করেছেন।
ঐ ২০টি দলিলের তালিকা অ.প্র. ১৯/১৯৮৫ মামলায় উল্লেখ আছে। দলিলগুলো পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দলিলগুলোর কিছু আমমোক্তারনামা এবং কিছু সাফকবলা দলিল।আমমোক্তারনামাগুলোতে সংশ্লিষ্ট জমির সকল মালিক দাতা হিসেবে উপস্থিত নেই,বর্তমানে দলিলগুলোর দাতা-গ্রহীতা উভয়েই মৃত,দলিলগুলোতে পণমূল্যের কথাও উল্লেখ নেই এবং দলিলগুলো অপ্রত্যাহারযোগ্য,আমমোক্তারনামা গুলো আইন দিয়ে বলবৎযোগ্য নয় এবং তা দিয়ে মালিকানা দাবী করা বেআইনি। সাফকবলা দলিলগুলোও বিভিন্ন দোষে দুষ্ট।
যেমন- সকল দলিলে সকল মালিক দাতা হিসেবে অনুপস্থিত,জমির মালিক নন এমন একাধিক ব্যক্তি দাতা হিসেবে উপস্থিত এবং অন্য ব্যক্তিবর্গ নামীয় সংশ্লিষ্ট নয় এমন দলিল ব্যবহার করে জমির মালিকানা দাবি।
এছাড়াও একই সম্পত্তি একবার বিক্রয় দলিলের মাধ্যমে প্রাপ্ত হওয়ার পরেও পরবর্তীতে আবারও উক্ত সম্পত্তি আমমোক্তারনামার মাধ্যমে মালিকানা অর্জনের মতো অদ্ভুত বিষয়ও জড়িত। এমনকি কিছু জমির মালিকানার কোন দলিল না থাকার পরেও বেআইনি ভাবে ঔসব জমির মালিকানা দাবি এবং দখলে রাখার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.