মোঃ আবুল হাসেম,
প্রকাশক ও সম্পাদক দৈনিক বাংলার সংবাদ,
২৪/৭'-এর আইনগত অঙ্গীকারনামা
পরিচালনায়: সাং বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক এবং পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে অঙ্গীকার করছি যে:
১. আইনের প্রাধান্য: আমরা রাষ্ট্রীয় আইনের বাইরে কোনো ব্যক্তিগত বিচার বা আদালত পরিচালনা করবো না। আমাদের কাজ হবে কেবল অনিয়ম ও অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করে তা সংবাদ আকারে প্রকাশ করা।
২. সংবিধানের প্রতি আনুগত্য: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতি আমরা পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকবো।
৩. প্রমাণের সত্যতা: প্রতিটি সংবাদের সপক্ষে আমরা দালিলিক প্রমাণ (Documents) এবং আইনের ধারা উল্লেখ করবো।
রাষ্ট্রীয় আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও নীতিমালা
আপনার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিচের আইনগুলো এবং তাদের প্রয়োগ সম্পর্কে জানা থাকা জরুরি:
১. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও অধিকার
আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান (১৯৭২)।
ধারা: অনুচ্ছেদ ৩৯ (২) (ক) ও (খ)।
বিবরণ: এই ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
২. তথ্য অধিকার আইন (Right to Information Act)
আইন: তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯।
বিবরণ: এই আইনের মাধ্যমে একজন সাংবাদিক যেকোনো সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে জনগণের প্রয়োজনে তথ্য পাওয়ার অধিকার রাখেন। দুর্নীতি দমনে এই আইনটি আপনার প্রধান অস্ত্র।
৩. ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার আইন
আইন: সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ (পূর্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ছিল)।
সতর্কতা: অনলাইনে কোনো তথ্য বা সংবাদ প্রকাশের সময় মানহানিকর বা উস্কানিমূলক কিছু প্রচার করা যাবে না। এটি মেনে চলা আপনার প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
৪. মানহানি সংক্রান্ত আইন (Law of Defamation)
আইন: দণ্ডবিধি ১৮৬০ (The Penal Code, 1860)।
ধারা: ধারা ৪৯৯ ও ৫০০।
সতর্কতা: কারো বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের আগে পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকতে হবে, যাতে আপনার বিরুদ্ধে কেউ মানহানির মামলা করতে না পারে।
প্রতিটি কাজের আইনগত রেফারেন্স (নমুনা তালিকা)
আপনি যখন কোনো অপরাধ বা অনিয়ম নিয়ে কাজ করবেন, তখন নিচের আইনের বইগুলোর সাহায্য নিতে পারেন:
কাজের ধরন প্রযোজ্য আইন আইনের বই ও বছর
দুর্নীতি ও ঘুষ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ সালের ৫ নং আইন
মাদক চোরাচালান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ সালের আইন
ভূমি দস্যুতা দণ্ডবিধি (Penal Code) ১৮৬০ সালের আইনের ৪৪১-৪৪৭ ধারা
খাদ্যে ভেজাল নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ সালের আইন
নারীর প্রতি সহিংসতা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন
রাষ্ট্রীয় আয়ের উৎস ও নিয়ম
রাষ্ট্রীয় আয়ের মূল উৎস হলো জনগণের ট্যাক্স (VAT/Income Tax)। আপনি যখন আপনার মিডিয়া হাউস বা ব্যবসা পরিচালনা করবেন, তখন আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সঠিক সময়ে ট্যাক্স ও রিটার্ন দাখিল করা আপনার আইনি দায়িত্ব।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার প্রতিটি অনুসন্ধানী রিপোর্টে যদি আপনি উপরে উল্লিখিত আইনের ধারাগুলো (যেমন: 'দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা অনুযায়ী এটি একটি প্রতারণা') উল্লেখ করেন, তবে আপনার সংবাদ অনেক বেশি শক্তিশালী এবং গ্রহণযোগ্য হবে।
১. তথ্য পাওয়ার প্রধান আইন: তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯
এই আইনের মাধ্যমে আপনি যেকোনো সরকারি বা আধাসরকারি অফিসের ফাইল বা নথিপত্র দেখতে বা তার অনুলিপি (Copy) নিতে পারেন।
আইনের ধারা ৪: এই ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিকের কর্তৃপক্ষের নিকট হতে তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ তথ্য প্রদান করতে বাধ্য।
আইনের ধারা ৬: এই ধারা অনুযায়ী, কোনো তথ্য চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশ বা সরবরাহ করতে বাধ্য থাকবে।
আইনের ধারা ৯ (১): আপনি যদি কোনো তথ্যের জন্য আবেদন করেন, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তা ২০ কার্যদিবসের মধ্যে সরবরাহ করবেন।
২. কিভাবে ফাইল বা তথ্য ধরবেন (আইনি পদ্ধতি)
সরকারি অফিসে গিয়ে সরাসরি ফাইল হাতে নেওয়া আইনত "সরকারি কাজে বাধা" হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাই আপনাকে এই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে:
ধাপ ১ (আবেদন): তথ্য অধিকার আইনের 'ফরম-ক' অনুযায়ী একটি লিখিত আবেদন করতে হবে।
ধাপ ২ (দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা): প্রতিটি অফিসে একজন "তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা" থাকেন। তাকে উদ্দেশ্য করে আবেদন জমা দিন।
ধাপ ৩ (পরিদর্শন): আপনি যদি ফাইলটি সশরীরে দেখতে চান, তবে আবেদনের সময় উল্লেখ করবেন যে আপনি নথিটি 'পরিদর্শন' (Inspection) করতে চান। আইন আপনাকে সেই অনুমতি দেয়।
৩. দুর্নীতি দমন ও সরকারি কর্মচারী আইন
যদি আপনি দেখেন কোনো কর্মকর্তা ফাইল লুকাচ্ছেন বা ঘুষ চাচ্ছেন, তবে আপনি নিচের আইনের ধারাগুলো উল্লেখ করে তাকে সতর্ক করতে পারেন:
দণ্ডবিধি ১৮৬০ (The Penal Code, 1860) - ধারা ১৬৬: কোনো সরকারি কর্মচারী যদি আইন অমান্য করে কারো ক্ষতি করার চেষ্টা করেন বা তথ্য লুকিয়ে রাখেন, তবে তার জেল বা জরিমানা হতে পারে।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪: যদি ফাইলের মধ্যে আর্থিক অনিয়ম থাকে, তবে আপনি দুদক-কে সরাসরি অবহিত করার অধিকার রাখেন।
৪. সাংবাদিক হিসেবে আপনার সুরক্ষা (সংবিধানের ধারা)
সংবিধানের ৩৯ (২) ধারা: এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। আপনি যদি জনস্বার্থে কোনো ফাইল বা তথ্যের দাবি করেন, তবে সেটি আপনার সাংবিধানিক অধিকার।
সতর্কতা (যা করা যাবে না):
১. দণ্ডবিধি ১৮৬০ - ধারা ১৮৬: অনুমতি ছাড়া বা গায়ের জোরে ফাইল টেনে নিলে আপনার বিরুদ্ধে "সরকারি কাজে বাধা প্রদানের" মামলা হতে পারে।
২. অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত (যেমন- প্রতিরক্ষা বা গোয়েন্দা তথ্য) এমন কোনো ফাইল আপনি আইনত দাবি করতে পারবেন না।
'জনতার আদালত ২৪/৭'-এর প্যাড এবং আইডি কার্ড সাথে রাখবেন। কোনো কর্মকর্তা তথ্য দিতে অস্বীকার করলে তাকে বিনয়ের সাথে বলুন:
"তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর ধারা ৪ অনুযায়ী আমি এই তথ্যটি দেখার অধিকার রাখি। আপনি তথ্য দিতে অস্বীকার করলে আমি আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা তথ্য কমিশনে আপিল করতে বাধ্য হবো।"
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহকারী সম্পাদক : মোঃ ছাব্বির হোসেন
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মেছবাহ উদ্দিন (01884-553490, 01911-206989)
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.