লালমনিরহাটে ধর্ষণকাণ্ড ধামাচাপা দিতে কিশোরী অপহরণের চেষ্টা, অভিযোগ দায়ের।
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি
রওশন বাবু ০১৭২৫১৯২৪২৪
, ৮ জুলাই, ২০২৬
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আজ বুধবার (৮ জুলাই) ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়িটারী গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মোখলেছার রহমান ফুলতলা (৪০) ওই স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশের একটি লিচুবাগানে নিয়ে যান। সেখানে কিশোরীর মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করে বাগানেই ফেলে রাখা হয়। ঘটনাটি কাউকে জানালে কিশোরী ও তার পরিবারকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেন অভিযুক্ত মোখলেছার। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় কোনো রকমে বাড়ি ফেরে ওই স্কুলছাত্রী।
ধর্ষণের ঘটনাটি আড়াল করতে গত ১ জুলাই নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতিবেশী সুমি বেগম ও নছিমন বেগমের সহায়তায় ওই স্কুলছাত্রীকে আবারও ডেকে নেন মোখলেছার। এরপর তাকে কৌশলে প্রথমে রংপুর নিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়। সেখান থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকায় নিয়ে যান অভিযুক্ত। ঢাকার এক বন্ধুর বাসায় আটকে রেখে ওই কিশোরীকে আবারও ধর্ষণ করেন মোখলেছার রহমান।
ঢাকায় থাকাকালীন একপর্যায়ে ওই স্কুলছাত্রী চিৎকার করে বাইরে ছুটে এসে স্থানীয় লোকজনের সহায়তা চায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উপস্থিত জনতা মোখলেছার রহমানকে গণধোলাই দিয়ে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা কিশোরীর কাছ থেকে তার পরিবারের মোবাইল নম্বর নিয়ে তাকে গাজীপুর থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বাসে তুলে দেন।
বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ স্কুলছাত্রীকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হলে গতকাল মঙ্গলবার রাতে মোখলেছার রহমান ফুলতলাসহ তার দুই নারী সহযোগীর বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত মোখলেছার রহমান অত্যন্ত দুশ্চরিত্র প্রকৃতির লোক। তার ভাই মহুবর রহমান স্থানীয় ওয়ার্ডের একজন গ্রাম পুলিশ হওয়ায়, তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি রফাদফা বা নষ্ট করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।
অসহায় ও আর্তনাদ জড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমি অত্যন্ত গরিব মানুষ, আমার টাকা-পয়সা নেই। থানায় মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ের ওপর হওয়া এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব গণমাধ্যমকে বলেন,
"অভিযোগ পাওয়ামাত্রই আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে রাতেই মামলা নথিভুক্ত করেছি। আজ বুধবার ভুক্তভোগী কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.