রৌমারীর দুটি সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ
তপ্ত রোদে জিরোলাইনে আটকে নারী-শিশু, উদ্বেগে স্থানীয়রা
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও বড়াইবাড়ি সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা আপাতত ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সীমান্তের জিরোলাইনে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে রয়েছেন কয়েকজন নারী, শিশু ও পুরুষ। প্রখর রোদ আর খোলা আকাশের নিচে তাদের অবস্থান ঘিরে মানবিক উদ্বেগও বাড়ছে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি। তবে রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি বিএসএফ।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার ভোরে ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার জালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১০৬০-এর ১ নম্বর সাব-পিলারের কাছে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৩ জন পুরুষ, ১ জন নারী ও ২ জন শিশুকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে ওই ছয়জনকে কাঁটাতারের কাছাকাছি সীমান্তের ফাঁকা এলাকায় রেখে যায় তারা।
একই সময়ে বড়াইবাড়ি বিওপি ক্যাম্প সংলগ্ন ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়েও আরও ৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালানো হয়। সেখানেও বিজিবি ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থান এবং প্রতিরোধের কারণে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
গয়টাপাড়া সীমান্তের বাসিন্দা সফিয়ার রহমান (৫৫) বলেন, “বিএসএফ সদস্যদের নিয়ে আসা লোকজন এখনো জিরোলাইনে অবস্থান করছে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি না। তারা কোন দেশের নাগরিক, সেটাও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে একজন নারী ও দুইজন শিশু রয়েছে। প্রচণ্ড রোদে তাদের কষ্ট করতে দেখে খারাপ লাগছে।”
তিনি বলেন, “জিরোলাইন থেকে কেউ যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য বিজিবির পাশাপাশি এলাকাবাসীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অবৈধভাবে কাউকে পুশইন করার চেষ্টা প্রতিহত করতে আমরা বিজিবিকে সহযোগিতা করছি।”
বড়াইবাড়ি সীমান্তের বাসিন্দা খোরশেদ আলম (৩৫) বলেন, “বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে বিএসএফ সদস্যরা তিনজনকে জিরোলাইন থেকে সরিয়ে ভারতের ভেতরের অংশে নিয়ে গেছে। তবে যেকোনো সময় আবার তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। তাই আমরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্তের ওপারে বিএসএফ সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। সীমান্ত সড়কে তাদের বড় বড় যানবাহন টহল দিচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে সবাই নজর রাখছে।”
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “রোববার ভোরে দুটি সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ মোট ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। কিন্তু বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনগণের বাধার কারণে তারা সফল হতে পারেনি।”
তিনি বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখনো তারা কোনো সাড়া দেয়নি। সীমান্তের জিরোলাইনে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বিষয়ে আমরা সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রেখেছি।”
বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “সীমান্তে অবৈধ পুশইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণও আমাদের সহযোগিতা করছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.