রাজাপুরে গভীর রাতে বসত গৃহে দু্র্দর্ষ চুরি! কুপিয়ে জখম করেছে এক নারীকে!
আলমগীর শরীফ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:-
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের আদর্শপাড়া এলাকায় ফকির কাউয়ুম হোসেনের ভবনে ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং তারিখ দিবাগত গভীর রাতে একটি ভবনের দুটি বাসায় অজ্ঞাতনামা এক চোর ঢুকে হাতিয়ে নিছে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ।
এ সময় ৪ র্থ তলার বাসায় থাকা "নওরীন" (২৪) নামে এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে ঐ-চোরে।
আহত নারী নওরীন জানান, নয় আনা ওজনের স্বর্ণের অলংকার ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় চোর। এছাড়াও একই ভবনের তৃতীয় তলায় এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বাসার দরজাও খোলা পাওয়া গেছে। তবে বাসার মালিক এলাকায় নাথাকায় চুরি হওয়া মালামালের পরিমান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আহত নারী নওরীন (২৪) ওই ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া। তিনি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া গ্রামের মো. মোসলেম মোল্লার মেয়ে। নওরীন ও তাঁর স্বামী মো. শাহিন হোসেন স্থানীয় সোহাগ জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত।
পুলিশ ও ভবনের মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সময় নওরীনের স্বামী নাইট শিফটে কর্মস্থলে ছিলেন। তাঁর শাশুড়িও বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় নওরীন একাই বাসায় ছিলেন। রাতের কোনো একসময় চোর রান্নাঘরের অ্যাডজাস্ট ফ্যান লাগানোর ফাঁকা জায়গা দিয়ে বাসায় প্রবেশ করে।
চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে নওরীন চিৎকার করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় চোর ভেতর থেকে ঘরের দরজা আটকে দেয়। একপর্যায়ে রান্নাঘরে থাকা সবজি কাটার চাকু দিয়ে নওরীনের মুখমণ্ডল, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বাসা থেকে নয় আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে একই পথ দিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে একই ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাসকারী মাদ্রাসাশিক্ষক মনোজের বাসার দরজাও খোলা পাওয়া যায়। তবে দরজা কীভাবে খোলা হয়েছে, চোর ওই বাসায় প্রবেশ করেছিল কি না কিংবা সেখান থেকে কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আহত অবস্থায় নওরীন মোবাইল ফোনে তাঁর স্বামীকে বিষয়টি জানালে তাঁর স্বামী ৯৯৯-এ ফোন করলে রাজাপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির মালিক ও অন্য ভাড়াটিয়াদের সহায়তায় দরজা ভেঙে নওরীনকে উদ্ধার করে রাত পৌনে ৪টার দিকে "সোহাগ জেনারেল হাসপাতালে" নেওয়া হলে ডাক্তার চিকিৎসা দেন। তাঁর ডান হাতে পাঁচটি এবং ডান পায়ে তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এবিষয়ে রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। উল্লেখ থাকে যে, এধরণের চুরির ঘটনা এ-এলাকার প্রায়ই ঘটছে।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.