রংপুর নগরীর প্রবেশপথে দুর্ভোগ
দুই বছর ধরে বেহাল ‘জিএল রায় রোড’ সংস্কার করতে নেই উদ্দ্যোগ
দূর্জয় রায়
রংপুর নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ সাতমাথা থেকে জাহাজ কোম্পানি মোড় পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ জিএল রায় রোড এখন নগরবাসীর জন্য এক চরম দুর্ভোগের নাম। দীর্ঘ দুই বছর ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক চলাচল পরিস্থিতি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সড়কটি আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের সংস্কার কাজই করছে না সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নগরবাসী, পথচারী এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ।
তারা বলছেন, তারা গেল বছর সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুনে আসছেন ‘এই মাসে’ ‘এই সপ্তাহে’ সড়কের কাজ শুরু করা হবে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কথা শুনতে শুনতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এখন আর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কথা বিশ্বাসই হয় না।
নগরবাসীরা জানান, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে রংপুর নগরীতে প্রবেশ করেন। প্রতিদিন অ্যাম্বুলেন্সসহ শত শত হালকা যানবাহন চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক উল্টে যাওয়ার ঘটনা যেন নিত্যদিনের চিত্র। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে ইতোমধ্যে একাধিকবার মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
লালমনিরহাট থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সচালক আজিজুল ইসলাম বলেন, “অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে এই সড়ক দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। কিন্তু খানাখন্দে ভরা এই সড়কে অ্যাম্বুলেন্স চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।”
তিনি আরও বলেন, “৮ থেকে ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এখন ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট সময় লাগে।”
কুড়িগ্রাম থেকে মোটরসাইকেলে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, “কুড়িগ্রাম থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ আসতে যতটা কষ্ট হয় না, তার চেয়ে দ্বিগুণ কষ্ট হয় এই পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তায়। গত মাসে আমার মোটরসাইকেল উল্টে গিয়ে আমি ও আমার স্ত্রী আহত হয়েছি।” ’বিকল্প সড়ক থাকলেও সেটি ব্যবহার করতে গেলে অনেক ঘুরপথে যেতে হয়,’ তিনি জানান।
সাতমাথা এলাকার ইজিবাইকচালক সাদেকুল ইসলাম বলেন,“এই রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। গত এক বছরে আমার ইজিবাইক তিনবার উল্টে গেছে। কয়েকজন যাত্রী আহতও হয়েছেন। তবুও জীবিকার তাগিদে এই ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে।”
কামাল কাছনা এলাকার বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন,“এই সড়ক এখন আমাদের জন্য দুর্ভোগের প্রতীক। সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। প্রতিকার চাইতে চাইতে আমরা ক্লান্ত। এখন যেন বাধ্য হয়েই এই দুর্ভোগ মেনে নিতে হচ্ছে।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শুধু আশ্বাসই শুনি—কবে কাজ শুরু হবে, সেটি আজও অনিশ্চিত।”
জাহাজ কোম্পানী মোড় এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শুনছি ‘এই মাসেই কাজ শুরু হবে’ ’্এই সপ্তাহে কাজ শুরু হবে’। জাতীয় নির্বাচনের আগেও সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু এখনও কাজ শুরু হয়নি। এই অবস্থার কারণে ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, ক্রেতা কমে যাচ্ছে।”
এদিকে সড়কের দুরাবস্থার কথা স্বীকার করেছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজম আলী।
তিনি জানান, প্রায় ২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করা হবে। সড়কের মাঝখানে ডিভাইডার নির্মাণসহ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও থাকবে। বর্ষাকাল শেষ হলেই কাজ শুরু করা হবে। দ্রুত সময়ে সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে।
“টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় সময়মত কাজ শুরু করা যায়নি। টেন্ডার মূল্যায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে। খুব দ্রুত ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হবে,’ তিনি বলেন।
রংপুর নগরীর প্রবেশপথে দুর্ভোগ
দুই বছর ধরে বেহাল ‘জিএল রায় রোড’ সংস্কার করতে নেই উদ্দ্যোগ
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্ট
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
রংপুর নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ সাতমাথা থেকে জাহাজ কোম্পানি মোড় পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ জিএল রায় রোড এখন নগরবাসীর জন্য এক চরম দুর্ভোগের নাম। দীর্ঘ দুই বছর ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক চলাচল পরিস্থিতি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সড়কটি আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের সংস্কার কাজই করছে না সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নগরবাসী, পথচারী এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ।
তারা বলছেন, তারা গেল বছর সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুনে আসছেন ‘এই মাসে’ ‘এই সপ্তাহে’ সড়কের কাজ শুরু করা হবে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কথা শুনতে শুনতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এখন আর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কথা বিশ্বাসই হয় না।
নগরবাসীরা জানান, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে রংপুর নগরীতে প্রবেশ করেন। প্রতিদিন অ্যাম্বুলেন্সসহ শত শত হালকা যানবাহন চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক উল্টে যাওয়ার ঘটনা যেন নিত্যদিনের চিত্র। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে ইতোমধ্যে একাধিকবার মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
লালমনিরহাট থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সচালক আজিজুল ইসলাম বলেন, “অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে এই সড়ক দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। কিন্তু খানাখন্দে ভরা এই সড়কে অ্যাম্বুলেন্স চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।”
তিনি আরও বলেন, “৮ থেকে ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এখন ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট সময় লাগে।”
কুড়িগ্রাম থেকে মোটরসাইকেলে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, “কুড়িগ্রাম থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ আসতে যতটা কষ্ট হয় না, তার চেয়ে দ্বিগুণ কষ্ট হয় এই পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তায়। গত মাসে আমার মোটরসাইকেল উল্টে গিয়ে আমি ও আমার স্ত্রী আহত হয়েছি।” ’বিকল্প সড়ক থাকলেও সেটি ব্যবহার করতে গেলে অনেক ঘুরপথে যেতে হয়,’ তিনি জানান।
সাতমাথা এলাকার ইজিবাইকচালক সাদেকুল ইসলাম বলেন,“এই রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। গত এক বছরে আমার ইজিবাইক তিনবার উল্টে গেছে। কয়েকজন যাত্রী আহতও হয়েছেন। তবুও জীবিকার তাগিদে এই ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে।”
কামাল কাছনা এলাকার বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন,“এই সড়ক এখন আমাদের জন্য দুর্ভোগের প্রতীক। সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। প্রতিকার চাইতে চাইতে আমরা ক্লান্ত। এখন যেন বাধ্য হয়েই এই দুর্ভোগ মেনে নিতে হচ্ছে।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শুধু আশ্বাসই শুনি—কবে কাজ শুরু হবে, সেটি আজও অনিশ্চিত।”
জাহাজ কোম্পানী মোড় এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শুনছি ‘এই মাসেই কাজ শুরু হবে’ ’্এই সপ্তাহে কাজ শুরু হবে’। জাতীয় নির্বাচনের আগেও সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু এখনও কাজ শুরু হয়নি। এই অবস্থার কারণে ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, ক্রেতা কমে যাচ্ছে।”
এদিকে সড়কের দুরাবস্থার কথা স্বীকার করেছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজম আলী।
তিনি জানান, প্রায় ২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করা হবে। সড়কের মাঝখানে ডিভাইডার নির্মাণসহ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও থাকবে। বর্ষাকাল শেষ হলেই কাজ শুরু করা হবে। দ্রুত সময়ে সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে।
“টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় সময়মত কাজ শুরু করা যায়নি। টেন্ডার মূল্যায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে। খুব দ্রুত ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হবে,’ তিনি বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.