রংপুর একই পরিবারে চার খুন
মা-মেয়ে ধর্ষণ হওয়ার তথ্য নিয়ে চলছে টানাহেচড়া।
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
রংপুর নগরীতে একই পরিবারে চারজন খুনের ঘটনায় মা ও মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কিনা এ নিয়ে নগরীতে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল তথ্য বিনিময়। এরমধ্যেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে কাজকরা এক ডোমের ভাষ্য নিয়ে তোলপাড়া শুরু হয়েছে। তার ভিডিও বক্তব্য থেকে রংপুর বাসী বিশ্বাস করছেন ‘মা ও মেয়েকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে’ তবে ফরেনসিক বিভাগের কোন নির্ভরযোগ্য এ তথ্যকে স্বীকার করেননি।
ফেসবুকে ছড়িয়েপড়া ভিডিওতে মর্গের ডোম জানিয়েছেন, তার ২৪-২৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা। মা ও মেয়ের গোপনাঙ্গ ফেলা ছিলো। সেখানে সোয়াপ পাওয়া গেছে। সোয়াপ সংগ্রহ করে ল্যাব টেস্টে পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ল্যাব টেস্টের পর ডাক্তার বাবু কি রিপোর্ট দেন সেটা তিনি ভালো জানেন।
বুধবার বিকেলে মর্গের ডোমের (যতন লাল) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে পারবেন না। চাপ আছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের ইনচার্জ সাহেদ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে, রবিবার সন্ধ্যায় নিহত মা ও মেয়ের গোপানাঙ্গ থেকে সোয়াপ সংগ্রহ করা হয় এবং মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে পরীক্ষা করা সোমবার বিকেলে। ল্যাব টেস্টে কি রেজাল্ট এসেছে সেটা ডাক্তারই বলতে পারবেন।
তিনি জানান, খুন হওয়া একই পরিবারের চারজনের মরদেহ মর্গে আনা হয় রবিবার বিকেলে। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় মরদেহ স্জনদের কাছে দেওয়া হয়।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান,’মা ও মেয়ের সোয়াপ সংগ্রহ করে মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে টেস্ট করা হয়েছে। কোন পজিটিভ রেজাল্ট পাওয়া যায়নি।’
ঘটনার কত ঘন্টার মধ্যে সোয়াপ সংগ্রহ করলে মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে টেস্ট করলে ফলাফল পাওয়া যায় এমন প্রশ্নে ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, ‘জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৭২ ঘন্টার মধ্যে সোয়াপ সংগ্রহ করা হলে ল্যাট টেস্টে সঠিক রেজাল্ট পাওয়া যায়। তবে মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটার চান্স খুবই কম। ১০ থেকে ১২ ঘন্টার সোয়ঢাপ সংগ্রহ করা হলে হয়তো রেজাল্ট পাওয়া যেতে পারে। আমার কর্মজীবনে শুধু একজন মৃত ব্যক্তির সোয়াপ ২৪ ঘন্টা পর সংগ্রহ করে ল্যাব টেস্টে পজিটিভ রেজাল্ট পেয়েছিলাম।’
মৃত ব্যক্তির সোয়াপ ল্যাব টেস্টে রেজাল্ট আসার চান্স নেই জেনেও কেনো ল্যাব টেস্ট করা হয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,’ এটা সরকারি নিয়ম। তবে অনেক সময় ফিজিক্যালি দেখেও আমরা আন্দাজ করতে পারি।
মা-মেয়ের ফিজিক্যাল অবস্থা দেখে কোন আন্দাজ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষন চুপ থেকে বলেন,’ ফিজিক্যালি ভালোভাবে দেখেছি। ধর্ষণের কোন আলামত পাইনি।’
অন্যদিকে মর্গের ডোমের বক্তব্য নিয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,’ চোখে দেখে মানুষ অনেক রকম ধারনা করতে পারে। কিন্তু ল্যাব টেস্টে সেটা হয় না।’
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান সনাতন চক্রবর্তী জানান,’ মরদেহ কি অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে সেটার চেয়ে বেশি গুরুত্ব হচ্ছে ল্যাব টেস্টের রেজাল্ট। যদি ল্যাব টেস্টে পজিটিভ আসে তাহলে পজিটিভ। আমরা ল্যাব টেস্টের রেজাল্ট এখনো পাইনি। ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যে মতামত দিবেন আমরা সেভাবেই কাজ করবো।’
গেল শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোর পযর্ন্ত মরদেহ উদ্ধার করার সময় ধারনকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, মা ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়িতে পড়েছিলো। এগুলো অর্ধ নগ্ন অবস্থায় ছিলো।
রংপুর নগরীর দাসপাড়[ (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার ভোরে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত শেষে রাতে রংপুর নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে দাহ্য করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.