রংপুরে ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৭৫
চলতি মৌসুমে বিভাগে মৃতের সংখ্যা ৮, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২২৬
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
রংপুর বিভাগে ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে আরও ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুমি বেগম (৩৫) নামে এক নারী মারা গেছেন।
শনিবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান রুমির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, চলতি বছর রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটজনে। তাদের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে দুজন এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন মারা গেছেন।
ডেঙ্গুতে নিহত রুমি বেগম রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত সোমবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সুত্র জানিয়েছে।
রুমি বেগমের স্বজন শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রায় এক মাস আগে ঢাকায় বসবাসকারী কয়েকজন আত্মীয় তাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তাদের সেবাযত্ন ও দেখাশোনা করেন রুমি। আত্মীয়রা ঢাকায় ফিরে যাওয়ার প্রায় ১৫ দিন পর জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি।
প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া হলেও জ্বর না কমায় তাকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হওয়া ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে রংপুর জেলায় ৩২ জন, নীলফামারীতে ১৩ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৩ জন, লালমনিরহাটে ১০ জন, দিনাজপুরে চারজন এবং গাইবান্ধায় তিনজন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত রংপুর বিভাগে মোট ২ হাজার ৫২২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ২৮৮ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ২২৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুধু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিলেই হবে না; একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করে। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানও জরুরি।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল হাসপাতাল বা চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকাসহ প্রতিটি বাড়িতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, সামান্য জ্বর দেখা দিলেও তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া গেলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.