রংপুরে চার খুন
’শুধু একটি পরিবার শেষ হলো না, আমাদের বংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল’।
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
গোপিনাথ চক্রবর্তী (৭০) কেঁদেকেঁদে বলছিলেন ‘আমার ছোট ভাই গণপতির পরিবারের চারজনের সবাই খুন হওয়ায় শুধু একটি পরিবার শেষ হয়নি। আমাদের পুরো বংশই নিশ্চিহ্ন হয়েছে। গণপতির ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীই ছিলো আমাদের বংশের শেষ পুত্র সন্তান।’ গোপিনাথ চক্রবর্তী রংপুর নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়িতে খুনের শিকার সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) বড় ভাই। তিনি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় পুরোহিত এবং চার খুনের মামলার বাদী।
মঙ্গলবার দুপুরে নিহত গণপতির বাড়িতে তার, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৪) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) আত্মার শান্তি কামনায় শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে অংম নেওয়ার কাঁদছিলেন গোপিনাথ চক্রবর্তী। এসময় তাদের আত্মীয় স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের উপস্থিতিতে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানটি করা হয়।
গোপিনাথ চক্রবর্তী বলেন, তারা চার ভাই ছিলেন। বড় দুই ভাই অনেক আগেই মারা গেছেন। তিনি আর গণপতি বেঁচে ছিলেন। তার কোন ছেলে সন্তান নেই। তার বড় দুই ভাইয়েরও কোন ছেলে সন্তান নেই। গণপতির ছেলে প্রীয়ম ছিলো তাদের বংশের একমাত্র ছেলে সন্তান। তাকে খুন করায় পুরো বংশই নির্বিংশ হয়ে গেল। ’প্রীয়ম বেঁচে থাকলে সেই আমাদের বংশকে বাঁচিয়ে রাখতো। এখন বংশে বাতি জ্বালানোর মতো আর কেউ রইলো না.,’ তিনি বলেন।
গোপিনাথ বলেন, তার ছোট ভাই গণপতি যখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলো তখন তাদের বাবা হেমন্ত চক্রবর্তী মারা যান। তিনি শৈশবকাল থেকে এলাকায় পুরোহিত্য করেন। ‘আমি পুরোহিত্যে মাধ্যমে উপার্জন করে গণপতিকে পড়াশুনা শিখিয়েছি। সে সরকারি চাকুরি পেয়েছিলো। আমাদের সকলের খেয়াল রাখতো গণপতি,’ তিনি বলেন। ‘প্রীয়ম যদি বেঁচে থাকতো তাহলে মনে বল পেতাম। আমার পিতা হেমন্ত চক্রবর্তীর বংশ শেষ। আমার মৃত্যুর পর আমাদের বংশে আর কোন পুরুষ থাকবে না,’ তিনি বলেন।
নিহত গণপতির ভাতিজি সপ্তমী চক্রবর্তী জানান,’ কাকাত ভাই প্রীয়ম ছিলো আমাদের চোখের মণি। সে ছিলো আমাদের বংশের একমাত্র ভাই। প্রীয়ম বেঁচে নেই এটা আমা ভাবতেই পারছি না।’
তিনি বলেন, তাদের কাকা গণপতি ও তার পরিবারের সবাই খুন হওয়ায় তার বাবা গোপিনাথ খুবই ভেঙ্গে পড়েছেন। তিনি শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে।
শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী ধীমান ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেল পযর্ন্ত শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান চলে। নিহতের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়। যেহেতু চারজনই খুন হয়েছে তাই চারদিনে সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে।’
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.