রংপুরে একই পরিবারে চারজন খুন
পুলিশ কর্মকর্তা ও আসামীর গায়ে একই রকমের শার্ট নিয়ে সমালোচনা
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
রংপুর নগরীতে একই পরিবারে চার খুনের ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা ও আসামীর শরীরে একই ধরনের শার্ট দেখা যাওয়ায় সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকহারে পোস্ট শেয়ার করছেন লোকজন। পুলিশ কর্মকর্তার শার্ট কেমন করে আসামীর গায়ে গেলো এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন লোকজন। তারা বলছেন চার থুনের ঘটনায় পুলিশ কোন কিছু লুকিয়ে রাখার রহস্য তৈরি করেছে।
ভিডিও দেখে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান সনাতন চক্রবর্তী একটি শার্ট গায়ে দিয়ে রংপুর নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় চার খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তিনি শনিবার রাত ১১টা থেকে রবিবার ভোর পযর্ন্ত একই শার্ট পরে ঘটনাস্থলেই ছিলেন। রবিবার দুপুরে যখন গ্রেফতার হওয়া দুই যুবক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আদালতে নেওয়া হয় তখন সিদ্ধার্থের গায়ে একই রকমের শার্ট দেখা যায়। শার্টটি তার গায়ে অনেকটা ঢিলেঢালা দেখাচ্ছিল। সিদ্ধার্থের পরিবারের লোকজন ও এলাকার কোন বাসিন্দা কোনদিনই তার শরীরে ওই রকমের শার্ট দেখেননি।
দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা শিবু দাস জানান,’ আমি অনেকদিন থেকেই সিদ্ধার্থের ওঠাবসা করেছি। সিদ্ধার্থকে যে শার্ট পরিয়ে আদালতে নেওয়া হয়েছিল এমন শার্ট কোনদিনই তার শরীরে দেখিনি। হয়তো পুলিশই তাকে ওই শার্ট দিয়েছেন।’
অপর বাসিন্দা বুধারু দাস বলেন, শনিবার রাতে চার খুনের ঘটনাস্থলে একজন পুলিশ কর্মকর্তার শরীরে যে শার্ট দেখেছিলেন পরদিন দুপুরে গ্রেফতার হওয়া সিদ্ধার্থের শরীরে একই শার্ট দেখতে পান। এর আগে সিদ্ধার্থের শরীরে এ রকমের শার্ট দেখেননি।
সিদ্ধার্থের বড় ভাই পার্থ দাস বলেন, রবিবার দুপুরে যে শার্ট পরিয়ে তার ভাইকে আদালতে নেওয়া হয়েছিল ওই রকমের শার্ট কোনদিনই তার ছিলো না। তার ভাই গেঞ্জি পরতে পছন্দ করে। রবিবার ভোরে যখন তার ভাইকে আটক করা হয় তখর তার গায়ে কালো রঙের একটি গেঞ্জি ছিলো। ‘আার ভাইয়ের শরীরে শার্ট কিভাবে এসেছিল সেটা আমি বলতে পারবো না,’ তিনি বলেন।
সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস বলেন, তার ছেরেক যে রকমের শার্ট পরিয়ে আদালতে নেওয়া হয়েছিল ওই রকমের শার্ট সে কোনদিনই কিনেনি কিংবা গায়ে দেয়নি। ‘পুলিশ যখন চার খুনের ঘটনাস্থলে এসেছিল আমিও তখন সেখানে উপস্থিত ছিলাম। একজন পুলিশ কর্মকর্তার গায়ে একই রকমের একটি শার্ট দেখেছিলাম। সিদ্ধার্থের গায়ে কিভাবে একই রকমের শার্ট আসলো সেটা আমি বলতে পারবো না,’ তিনি বলেন।
তবে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার ও গোয়েন্দা (ডিবি) প্রধান সনাতন চক্রবর্তী বলেন, তিনি ওয রকমের শার্ট পরে খুনের ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন সেটি এখনো রয়েছে। তিনি এ শার্ট আড়ং থেকে কিনেছেন। একই রকমের শার্ট অনেকগুলো থাকতে পারে। এক বা একাধিক ব্যক্তির সাথে একই রকমের শার্টের মিল থাকতে পারে। এটা কোন বিষয় না। সিদ্ধার্থ গ্রেফতার হওয়ার তার গায়ে যে শার্ট ছিলো আদালতে তাকে নেওয়া সময় তার শরীরে একই শার্ট ছিলো।
বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে শুক্রবার ভোর রাতে রংপুর নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়ীতে সাবেক স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী আয়ুশ খুন হন। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.