রংপুরের তারাগঞ্জ
সুরতহাল রিপোর্ট বলছে স্কুলছাত্রীকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরানীপাড়া গ্রামে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে এ তথ্য বলা হয়েছে। মিশুটির বাবা দায়েরকৃত মামলায় ধর্ষণের পর হত্যার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তারাগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন।
ওসি জানান,’ পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করার সময় শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত পেয়েছে। শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সংগ্রহকৃত সকল ধরনের আলামত ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার রাতেই শিশুটির মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।’
ওসি জানান, এ ঘটনায় রবিবার দুপুর পযর্ন্ত কোন দুর্বৃত্তকে শনাক্ত করা যায়নি। থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে কাজ করছে। গুরুত্ব সহকারে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই আসামী শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।
পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ভীমপুর কোরানীপাড়া গ্রামে তিস্তা সেচ ক্যানেলের পাশের একটি পাটখেত থেকে শিশুটির দুই চোখ উপড়ানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার দুপুরের পর থেকে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যার পর এলাকায় মাইকিং করা হয় এবং গ্রামজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক অনুসন্ধান।
শনিবার দুপুরে কয়েকজন কৃষক মাঠে কাজ করতে গিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে তিস্তা সেচ ক্যানেলের পাশে একটি পাটখেতে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত শিশু সানজিদা আক্তার (৭) উপজেলার ভীমপুর কোরানীপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শিশুটির বাবা সাইদুল ইসলাম বলেন,’ আমার মেয়েকে হত্যার পুর্বে জোরপুর্বক ধর্ষণ করা হয়েছিল। গ্রামেরই কোন পাষন্ড এই নির্মম ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমুলক বিচার চাচ্ছি।’ “আমার মেয়েটি খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল। পড়াশোনাতেও ভালো ছিলো। শুক্রবার দুপুরে সে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিলো। দুপুরের পর থেকে সে নিখোঁজ হয়,’ তিনি বলেন। ‘আমার মেয়ের মরদেহ দেখার পর থেকে আমি শান্ত থাকতে পারছি না। রাতে ঘুমাতে পারিনি। চোখের সামনে শুধু মেয়ের ছবি ভেসে উঠছে,’ তিনি বলেন।
ওসি রুহুল আমিন বলেন, স্কুলছাত্রীর অভিযুক্ত ধর্ষক ও খুনি শনাক্ত করতে প্রযুক্তির সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। আসামী গ্রেপ্তার্ হলে দ্রুতই চার্জশিট প্রস্তুত করে আদালতে জমা দেওয়া হবে বিচারের জন্য।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.