মনোগহীনে ভেসে বেড়ানো অধ্যাপক তফসির উদ্দিন খান মৃত্যুদিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলিঃ-
মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক বাংলার সংবাদ,৷
আজ ১৩ই জুলাই নেত্রকোনার মানুষের পরম সুহৃদ-স্বজন অধ্যাপক তফসির উদ্দিন খানের মৃত্যুদিবস।২০২২সনের এই দিনে সকলকে কাঁদিয়ে সদা হাস্যজ্জল এই নমস্যজন ধরাধাম থেকে বিদায় নেন।অধ্যাপক তফসির উদ্দিন খান ছিলেন সদা হাসিখুশি প্রানোচ্ছল শিক্ষক, মাটি ও মানুষের নেতা।একাধারে রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ,সমাজসেবক এমন কোন বিশেষন নেই যে উনার পালকে যুক্ত হয়নি।এই মানুষটি ১৯৪৬সনের ৭ই জানুয়ারী নেত্রকোনা সদর থানার ‘মেদনী’ গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।পিতা মোঃনবী হোসেন খান মাতা আয়ফতেরন্নেছা। ভাই বোনদের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান তিনি।একমাত্র বোন ছালেহা খাতুন(রাহাত, খসরু, সালাউদ্দিনের মাতা) গত ৭ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ পরলোকগমন করেছেন। তফসির উদ্দিন খান সম্পর্কে উনার একসময়কার সহপাঠী ছোটবাজারস্থ জনাব হাফিজুর রহমান (লালু)(ব্যারিস্টার রনির পিতা) বলেন “তফসির আর আমি একই সঙ্গে আঞ্জুমান স্কুলে প্রাইমারী থেকে পড়াশোনা করলেও একসময় সে দত্ত উচ্চবিদ্যালয়ে চলে যায় সেখান থেকেই ১৯৬৩সনে মেট্রিক এবং ১৯৬৫সনে নেত্রকোনা কলেজ থেকে এ্ইচ এসসি ১৯৬৮সনে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে অনার্স ডিগ্রী ১৯৭০সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করে” আর আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করে ছোটবাজারে বসতি স্থাপন করি।তফসির উদ্দীন খান বিশ্বদ্যিালয় জীবন শেষে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ হাফেজ জিয়াউর রহমান কলেজে কর্মজীবন শুরু করে ১৯৭৫সনের পর পূর্বধলা কলেজে যোগদান করেন।সেখান থেকেই ২০০৩সনে চাকুরী জীবনের ইতি টানেন।চাকুরী জীবনে উনার বাহন ৫০সিসি হোন্ডায় বসে হাসিমূখে সালাম বিনিময় করতে করতে যাওয়া আসা যেন নেত্রকোনা অধ্যায়ে এক অপার সেৌন্দর্যের দৃশ্য হয়ে রয়েছে।তফসির উদ্দিন খান নেত্রকোনা শহরের সন্তান বিধায় অধ্যাপনা শেষে বসতেন তেরীবাজারে চুনীবাবুর ‘পুথিঘরে’জনাব শামসুজ্জোহা, মতিয়র রহমান খান,গোলজার হোসেন, আব্দুল কদ্দুছ(পরবর্তিতে বিএনপি সম্পাদক) সহ অনেকের সাথে। কখনো রয়েল মেডিকেল হল, মাখন নাথ চৌধুরীর রয়েল লাইব্রেরী,সিলভারপট্টিতে মলয় রায় চৌধুরীর দোকানে আড্ডায় ডুবে থাকতেন।চাকুরী জীবনের শেষে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।দলও যথাযথ মুল্যায়ন পূর্বক পদবী দিয়ে সম্মানিত করেছে।তিনি নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক এবং পরবর্তিতে সহসভাপতির আসন অলংকৃত করেন। শহরের হিন্দু-মুসলিম, ধনী- দরিদ্র সবার কাছেই তিনি ‘স্যার’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। পৌরপতি গড়ার কারিগর হিসেবেও অবদান রেখেছেন।মিছিলে সবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দিতে এক পর্যায়ে নিজের ললাটেও অংকিত হয় উপজেলা চেয়ারম্যানের পদবী। নেত্রকোনা উপজেলার দুইবারের চেয়ারম্যান থাকা কালে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করে গেছেন।শহরের বিভিন্ন সামাজিক দরবার উনাকে ছাড়া শেষ হতোনা। তিনি নেত্রকোনার শিশুকিশোর সংগঠন ‘কচিকাচার মেলা’, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, শিল্পকলা একাডেমী,পাবলিক লাইব্রেরী, জেলা প্রেসক্লাবের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন।এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন রাজুরবাজার কলেজিয়েট স্কুল, বড়ওয়ারী উচ্চবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির দায়িত্ব পালন করে গেছেন।২০১২সনে পক্ষকালব্যাপী বিজয়মেলা উৎযাপনে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে মেলাকে অর্থবহ করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।২০২২ সনের ১৩ই জুলাই সদা হাস্যজ্বল এই মানুষটি আমাদের ছেড়ে পরপারবাসী হন।ব্যক্তিগত জীবনে এক ছেলে এক কণ্যার জনক।স্ত্রী রওশনা আক্তার নেত্রকোনা সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পদে থেকেই অবসরে যান তিনি নারী জাগরনে নেত্রকোনা অধ্যায়ে অগ্রনী ভূমিকা পালনকারীদের একজন।ছেলে মারুফ হাসান খান (অভ্র) সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মেয়ে ‘তরু’ উন্নয়ন কর্মী হিসাবে কাজ করে বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.