ভুল ইনজেকশনে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, বগুড়ার শজিমেকে স্বজন-চিকিৎসক সংঘর্ষ, কর্মবিরতিতে ইন্টার্নরা
মোস্তফা আল মাসুদ, বগুড়া।
ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাসহ কয়েকটি দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা যায় মঙ্গলবার বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার অ্যাজমা জটিলতা নিয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী আব্দুল মালেক।
হাসপাতাল সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতালের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুকে ‘ভুল চিকিৎসা’ হিসেবে দাবি করে রোগীর স্বজন ও কয়েকজন বহিরাগত তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে ইন্টার্ন ও মিড লেভেলের ছয়জন চিকিৎসক আহত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের হাতের হাড় ভেঙেছে বলেও দাবি করেন চিকিৎসকেরা।
তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, রোগীকে ভুল ইনজেকশন দেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর তাঁদের সঙ্গে থাকা ছয়জনকে মারধর করে হাসপাতালের ভেতরে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন স্বজনেরা।
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর ই মুর্শেদ বলেন, একজন অ্যাজমা রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের হামলায় ইন্টার্ন ও মিড লেভেলের ছয়জন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিনিয়র ও মিড লেভেলের চিকিৎসকদের সেবায় নিয়োজিত করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের পর নিরাপত্তাসহ কয়েকটি দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। তাঁদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে প্রায় তিন ঘণ্টা পর, মধ্যরাত তিনটার দিকে পুলিশ হাসপাতাল থেকে আহত অবস্থায় তাদের বের করে নিয়ে যায়। পুলিশের হেফাজতে থাকা ছয়জনের মধ্যে চারজনই ছাত্রদলের নেতা বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে বগুড়া মহানগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইসলাম ও যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্ত বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে শজিমেক হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। অন্য দুই ছাত্রদল নেতাসহ চারজনকে নেওয়া হয়েছে থানায়। তারা হলেন, ১৮নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব (১৮), ১৯নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্না শেখ ওরফে এসএম সিহাব (১৮), মহানগরীর নিশিন্দারা এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে তানভীর শেখ (২৬) ও মহানগরীর নামাজগড় এলাকার লোকমান হাকিমের ছেলে বিপ্লব সরদার (২৬)।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে যায়। সেখান থেকে ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভুল হয়েছিল কি না তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.