বোয়ালখালীবাসী অতিরিক্ত ভাড়া নৈরাজ্য থেকে কোনোভাবেই রেহাই পাচ্ছে না: মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ কোনোভাবেই থামছে না। প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে যাতায়াত করতে গিয়ে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়ার অসামঞ্জস্য, ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় এবং ভাড়া নিয়ে চালক-যাত্রীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনায় গণপরিবহন ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে চরম অস্বস্তি ও ভোগান্তি।
বিভিন্ন সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে অল্প দূরত্বের পথের জন্যও তুলনামূলক বেশি ভাড়া দাবি করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যয় বেড়ে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, শ্রমজীবী ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে প্রতিনিয়ত এ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে আজ সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাগরিক ছাত্র ঐক্য কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী বলেন “বোয়ালখালী আমার নিজের এলাকা। এখানকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে আমি সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই আমার এলাকার মানুষ যখন প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া ও পরিবহন নৈরাজ্যের শিকার হন, তখন কষ্টটা আমারও একটু বেশি হয়।”
তিনি বলেন, “বিষয়টি শুধু অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের হয়রানি, দুর্ভোগ এবং ন্যায্য অধিকার পাওয়ার প্রশ্ন জড়িত। একজন মানুষ সারাদিন পরিশ্রম করে পরিবারের খরচ চালান। সেই মানুষটিকে যদি প্রতিদিন যাতায়াতের সময় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়, তাহলে তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। গণপরিবহন মানুষের চলাচল সহজ করার জন্য, মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানোর জন্য নয়।”
মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, “একই সড়কে কোথা থেকে উঠলে কত ভাড়া এবং কোথায় গেলে কত ভাড়া—এ বিষয়ে যাত্রীদের মধ্যে যেমন অস্পষ্টতা রয়েছে, তেমনি অনেক সময় পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যেও ভিন্ন ভিন্নভাবে ভাড়া নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এর ফলে যাত্রীদের সঙ্গে চালক ও সহকারীদের কথা কাটাকাটি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। কোনো যাত্রী ন্যায্য ভাড়ার বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে যেন হয়রানি বা দুর্ব্যবহারের শিকার হতে না হয়, প্রশাসনকে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভাড়া নৈরাজ্যের স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। নিয়মিত মনিটরিং ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “বোয়ালখালীর সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করুন। পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও যাত্রীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত ভাড়া কাঠামো নির্ধারণ করুন এবং মাঠপর্যায়ে তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন।”
তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদের হয়রানি ও দুর্ভোগও অনেকাংশে কমে আসবে।”
সাধারণ যাত্রীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বোয়ালখালীর গণপরিবহনে চলমান ভাড়া নৈরাজ্যের অবসান ঘটাবে এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করবে।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.