বেলকুচিতে একাধিক পসেস মিলের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণ ও অবৈধ পরিচালনার অভিযোগ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
মালিকের দাবি, বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তাকে টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করেই চলছে কার্যক্রম
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মকন্দগাতি এলাকার চালা কালিবাড়ি হাট রোডে গড়ে ওঠা একাধিক পসেস ও মার্চেন্ডাইজিং মিলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব মিলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় দূষিত হচ্ছে নদী ও আশপাশের পরিবেশ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েকটি মিলের বর্জ্য পানি সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে নদীর পানিতে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। একসময় যে নদীতে স্থানীয়রা গোসল করতেন, মাছ ধরতেন এবং গবাদিপশু গোসল করাতেন, দূষণের কারণে এখন সেই নদীতে নামাই কঠিন হয়ে পড়েছে। নদীতে মাছও আগের মতো পাওয়া যায় না বলে দাবি স্থানীয়দের।
শুধু নদী নয়, আশপাশের টিউবওয়েলের পানিতেও দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে অনেকেই ওই পানি ব্যবহার করতে পারছেন না। দীর্ঘদিনের এমন দূষণে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকায় যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—চৌধুরী মার্চরাইজ মিলের স্বত্বাধিকারী শ্রী আসিত কুমার চৌধুরী, মেসার্স ইভান এন্ড পরিশাহ মার্চরাইজিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোঃ এমদাদুল হক লিটন, মেসার্স ন্যাশনাল মার্চরাইজিং মিলের স্বত্বাধিকারী হাজী এম. মজনু খান, মেসার্স একতা ডাইংয়ের স্বত্বাধিকারী মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং মেসার্স শাহাজালাল পসেস মিলের স্বত্বাধিকারী হাসান সরকার।
এদিকে, মিল মালিকদের একজনের বক্তব্যে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে। মেসার্স একতা ডাইংয়ের স্বত্বাধিকারী মোঃ সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, মিল পরিচালনার ক্ষেত্রে থানা, সার্কেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ে টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করতে হয়। তার দাবি, গত কয়েক মাসে এ বাবদ প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। নতুন সার্কেল কর্মকর্তা আসার পরও ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
সাইফুল ইসলামের দাবি, নদীতে মাছ না থাকলেও বিভিন্ন সময় মাছের তালিকা দেওয়া হয় এবং সেই তালিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রতিবছর বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে চিঠি এলে পসেস মিলের সভাপতির মাধ্যমে টাকা দিতে হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, আমাদের পসেস মিলের সভাপতি হাজী মজিদের মাধ্যমে বিভিন্ন সেক্টরে টাকা দেওয়া হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম বলেন, ওই এলাকায় দুই-একটি পসেস মিলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া যেসব পসেস মিল এখনও অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু মামলা নয়, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত মিলগুলোর কার্যক্রম বন্ধ এবং নদী ও ভূগর্ভস্থ পানির দূষণ রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.