প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ৩০, ২০২৬, ১১:৫২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৯, ২০২৬, ১২:২৬ এ.এম

বিয়ের দুই দিন পরই রহস্যজনক মৃত্যু, গাছ থেকে স্কুলশিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার। আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ ২৮ আগস্ট, ২০২৮ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিয়ের মাত্র দুই দিন পর গলায় ফাঁস দিয়ে আবু সালেম প্রধান (২৮) নামের এক স্কুলশিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন। চরম হতাশা ও ক্ষোভ থেকে তিনি এমন পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ​শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মধ্য নিরুপাড়া এলাকার একটি কলাবাগান থেকে ওই শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ। ​নিহত আবু সালেম প্রধান দরবস্ত ইউনিয়নের মধ্য নিরুপাড়া গ্রামের ইসহাক প্রধানের ছেলে। তিনি উপজেলার কাটাখালী বালুয়াহাট এলাকার ‘ইউনিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’-এ সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ আগস্ট (বুধবার) কাটাবাড়ি ইউনিয়নের মালেকাবাদ এলাকার আইস উদ্দিনের মেয়ে শ্যামলী আক্তারের সাথে পারিবারিকভাবে সালেমের বিয়ে হয়। তবে এই বিয়েতে পারিবারিক সম্মতি থাকলেও এর আনুষ্ঠানিকতা ও তড়িঘড়ি আয়োজন নিয়ে সালেমের আপত্তি ছিল। তাঁর ইচ্ছা ছিল কেবল বিয়ে রেজিস্ট্রি করে রেখে পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা। কিন্তু পরিবারের সিদ্ধান্তে তা সম্ভব হয়নি। ​এরই জেরে শুক্রবার দুপুরের দিকে গ্রামের একটি কলাবাগানের গাছের সাথে সালেমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। ​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান আলী জানান, নববধূর পরিবার, স্বজন ও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—হতাশা বা ক্ষোভ থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ​গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। বিয়ের দুদিনের মাথায় এমন মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।