
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মোহসিন আলী (একজন মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার)
নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র, মঙ্গলবার, ২০ শে জানুয়ারি ২০২৬।
কেন বাংলাদেশকে একটি অন্যায় ভোট প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং “না” বলতে হবে
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশে একটি জাতীয় নির্বাচন ও তথাকথিত “হ্যাঁ/না গণভোট” অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে—এমন এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যা গণতন্ত্রের মৌলিক নীতিগুলোকে গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করছে। দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি—যার পক্ষে রয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার, এবং যে দলটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত—তাকে এই প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যেখানে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে বাদ দিয়ে ভোট হয়, সেখানে সেটি আর জনগণের সম্মতি নয়—
সেটি হয়ে ওঠে বৈধতার অভিনয়, বৈধতার উৎস নয়।
এই লেখাটি বাংলাদেশি নাগরিকদের—দেশে ও প্রবাসে—আহ্বান জানায়, যেন তারা শান্তিপূর্ণভাবে এই প্রক্রিয়া বয়কট করেন, এবং যেখানে অংশগ্রহণ এড়ানো সম্ভব নয়, সেখানে “না” চিহ্নিত করেন—ইতিহাস, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও জাতির ভবিষ্যৎ রক্ষার স্বার্থে।
কেন এই ভোট নৈতিক ও গণতান্ত্রিক বৈধতা হারিয়েছে
বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে।
• ৩০ লক্ষ শহীদ প্রাণ দিয়েছেন
• লক্ষ লক্ষ নারী সহ্য করেছেন অকল্পনীয় নির্যাতন
• ১ কোটি মানুষ জীবন বাঁচাতে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন
এই ভিত্তিকে অস্বীকার করা, বিকৃত করা বা পাশ কাটিয়ে যাওয়া কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়া
জাতির আত্মার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে।
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত দলকে নিষিদ্ধ করে আয়োজিত কোনো গণভোট গণতন্ত্র নয়—
এটি হলো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা।
“হ্যাঁ” বলার প্রকৃত অর্থ কী
এই পরিস্থিতিতে “হ্যাঁ” বলা কোনো নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নয়।
এর রয়েছে নৈতিক, প্রতীকী ও বাস্তব পরিণতি।
“হ্যাঁ” মানে—
1. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার চেতনাকে অস্বীকার করা
2. সংবিধানের সার্বভৌম ও মূল্যবোধগত ভিত্তিকে দুর্বল করা
3. অসংখ্য মা ও বোনের ত্যাগ ও যন্ত্রণাকে অপমান করা
4. ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা
5. ১৯৭১-পরবর্তী ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করা
6. গণতান্ত্রিক রাজনীতির জায়গায় জনতার সন্ত্রাসকে স্বাভাবিক করা
7. স্বপ্নের “সোনার বাংলা” ধ্বংসের পথ খুলে দেওয়া
8. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলাকে বৈধতা দেওয়া
9. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে লুটপাটকে স্বীকৃতি দেওয়া
10. মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা
11. নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে উপেক্ষা করা
12. পারিবারিক সম্মানকে ভয়ের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা
13. প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড ও নৃশংসতাকে মেনে নেওয়া
14. মানুষের জীবনকে সংখ্যায় নামিয়ে আনা
15. মসজিদ, মন্দির, মাজার ও কবরস্থান আক্রমণের নীরব অনুমোদন
16. শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অবমাননা
17. কৃষকদের জন্য কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি
18. সিন্ডিকেটের হাতে জাতীয় স্বার্থ তুলে দেওয়া
19. প্রতারণা ও রাজনৈতিক নাটককে পুরস্কৃত করা
20. দুর্নীতিকে সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করা
21. বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করা
22. ভয় ও মামলার রাজনীতি চালু করা
23. চাঁদাবাজিকে স্বাভাবিক করা
24. জনগণের কণ্ঠরোধ করা
25. বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের সুযোগ সৃষ্টি
26. জাতীয় সম্পদ বিদেশি স্বার্থে তুলে দেওয়া
27. কৌশলগত বন্দর ও স্থাপনা ইজারা দেওয়া
28. বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে বাধা সৃষ্টি
29. প্রবাসী শ্রমিকদের অপমান
30. বাংলাদেশকে অশান্ত ও বিপজ্জনক রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি
31. একতরফা রাজনৈতিক বন্দোবস্তকে বৈধতা দেওয়া
এই প্রেক্ষাপটে “হ্যাঁ” মানে স্থিতিশীলতা নয়—
“হ্যাঁ” মানে স্মৃতিভ্রংশ।
কেন বয়কট একটি নৈতিক অবস্থান
যখন কোনো ব্যবস্থাই প্রকৃত পছন্দের সুযোগ দেয় না,
তখন অংশ না নেওয়াই প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে।
ইতিহাস সাক্ষী—দক্ষিণ এশিয়া থেকে আফ্রিকা,
লাতিন আমেরিকা থেকে ইউরোপ—
শান্তিপূর্ণ বয়কট বহুবার নাগরিক শক্তির প্রকাশ ঘটিয়েছে।
এই বয়কট গণতন্ত্র প্রত্যাখ্যান নয়—
এটি হলো গণতন্ত্রকে অপব্যবহার থেকে রক্ষা করা।
জীবন, সম্মান ও রাষ্ট্র রক্ষায় “না” বলুন
এটি সহিংসতার আহ্বান নয়।
এটি বিবেক, সাহস ও শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের ডাক।
• আইনহীনতার নয়—জীবনের পক্ষে দাঁড়ান
• অপমানের নয়—সম্মানের পক্ষে দাঁড়ান
• লুটপাটের নয়—সম্পদের পক্ষে দাঁড়ান
• সাজানো সম্মতির নয়—প্রজাতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়ান
যেখানে অংশগ্রহণ অনিবার্য— “না” চিহ্নিত করুন।
যেখানে বিবেক সায় দেয়—শান্তিপূর্ণ বয়কট করুন।
নিজেকে প্রশ্ন করুন—নীরবে, সৎভাবে—
এটাই কি শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ?
এটাই কি সেই গণতন্ত্র, যার জন্য মায়েরা ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন?
আজ কি সত্য বলার চেয়ে নীরব থাকা নিরাপদ?
শেষ আবেদন
গণতন্ত্র কেবল আচার দিয়ে টিকে থাকে না।
এটি টিকে থাকে স্মৃতি, অন্তর্ভুক্তি, ন্যায়বিচার ও নৈতিক স্পষ্টতায়।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬—
ভয় দিয়ে নয়, নীতি দিয়ে কথা বলুক বাংলাদেশ।
ভুয়া প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে “না” বলুন।
ইতিহাস মুছে ফেলার বিরুদ্ধে “না” বলুন।
জনতার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে “না” বলুন।
মর্যাদার সঙ্গে— “না” বলুন।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহকারী সম্পাদক : মোঃ ছাব্বির হোসেন
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মেছবাহ উদ্দিন (01884-553490, 01911-206989)
বার্তা সম্পাদক : মোঃ বদিয়ার মুন্সী
মফাস্বল সম্পাদক: মাহবুবুর রহমান।
সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদকঃ আসাদুজ্জামান খান মুকুল
www.dainikbanglarsangbad.com
ইমেইলঃ dainikbanglarsangbad490@gmail.com
প্রধান কার্যলয়ঃ ৩৬০/১,২তলা ভিটিবির নিকটে,
ডি আইটি রোড রামপুরা ঢাকা।
মোবাইলঃ01736-091515, 01716-698621
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.