আজ ৬ জুন, ২০২৬, বিকাল ৪ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে বাসদ (মার্কসবাদী) দলের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাহী ফোরামের সদস্য জয়দীপ ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন নির্বাহী ফোরামের সদস্য সীমা দত্ত ও রাশেদ শাহরিয়ার।
তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, "
বিএনপি সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সাশ্রয়ী, টেকসই, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এমন কি নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘোষণা করেছিলেন যে অন্তত দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। অথচ ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মাথায় খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৬.৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে রয়েছে।
মানুষ আশা করেছিল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গঠিত একটি নির্বাচিত সরকার মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। কিন্তু জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে সেই চাপ আরও বাড়বে। ইতোমধ্যে জ্বালানির দাম একাধিকবার বেড়েছে, যার প্রভাব পরিবহন ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে পড়েছে। এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ায় কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে, যার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়বে। এতে নিম্ন ও স্থির আয়ের মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
বর্তমানে বিদ্যুতের ভর্তুকির প্রয়োজন হয় কারণ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য হয় ক্যাপাসিটি চার্জসহ। অর্থাৎ, অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ না কিনলেও চুক্তির কারণে তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হয়। বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট করা হলেও দৈনিক প্রয়োজন ১৪/১৫ হাজার মেগাওয়াট। ফলে সরকার এই অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা দেখিয়ে বাস্তবে বড় বড় ব্যাবসায়ীদের ভর্তুকি দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৫ বছরে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার এবং খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও লোকসান বা ভর্তুকির বোঝা কমেনি। ফলে স্পষ্ট যে শুধু দাম বাড়ানো কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।
দেশে মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের এই স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ালে জনদুর্ভোগ বাড়তেই থাকবে।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
(01884-553490, 01911-206989)
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.