আরিফুল ইসলাম মহিন,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় উপজাতীয় আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে তিন যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে পানছড়ি-লোগাং সড়কের মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি অটোরিকশা থামিয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিরা প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহতরা হলেন— সাংগঠনিক নাম পদ্মা চাকমা (১৮), বাড়ি সাজেক, রাঙ্গামাটি; ধনা চাকমা (১৮), রাঙ্গামাটি; এবং রিয়েল চাকমা (১৮), পানছড়ি, খাগড়াছড়ি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন আগে জেএসএসের সদস্য ছিলেন এবং গত ১৯ মে ২০২৬ বিজিবির কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, আত্মসমর্পণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
ঘটনাস্থল থেকে দুটি মিসফায়ার রাউন্ড, ১৪টি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা এবং চারটি বুলেট উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
এ বিষয়ে ইউপিডিএফ (প্রসিত) পানছড়ি উপজেলা সমন্বয়ক আইচ্যুক ত্রিপুরা বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অন্য কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি সম্ভাব্য হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.