পশ্চিমবঙ্গে " জয় শ্রীরাম " কৌশলে জিতে গেল বিজেপি। হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ জয় শ্রীরামের বদলে মমতা ব্যানার্জি " জয় বাংলা" স্লোগান দিলেও তাঁর মুসলিম তোষণ নীতি শেষ পর্যন্ত বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি হেরে গেল! খবর সোয়েব হোসেন চেতনা “৭১।
১৯৭০ সালের ১৫ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় শুভেন্দু অধিকারী জন্মগ্রহণ করেন।১৯৯৫ সালে কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৬ -২০২০ সাল পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী পরিবহন মন্ত্রী ও ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সেচ ও জলসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন।২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারী " নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব করেছেন। তিনি শিশির অধিকারীর পুত্র , যিনি মনমোহন সিং সরকারের প্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।তার ভাই সৌমেন্দু অধিকরী কাঁথি পৌরসভার চেয়ারম্যান । এছাড়াও ২০১৯ সালে তমলুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন।
২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে ১০ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আলোচনায় আসেন।এই ১৯ বছর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসে মমতা ব্যানার্জি ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।তার জয় শ্রীরামের বিরুদ্ধে জয় বাংলা স্লোগান বাঙালির আত্মার স্লোগান হলেও গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গি তোষণ রাজনীতির কারণে শেষ পর্যন্ত মমতা ব্যানার্জির ভরাডুবি হয়েছে।এই মমতা ব্যানার্জির হাত ধরেই শুভেন্দু লোকসভার সাংসদ ও পরবর্তীতে মমতা সরকারের পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর শুভেন্দু অধিকারী মমতার তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে পাল্টে যায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি।২০২১ সালের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসনে মমতা ব্যানার্জিকে ১,৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।এই প্রথম বিজেপি ৭৭ আসন পায় পশ্চিমবঙ্গে।
২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা ব্যানার্জি প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন।এর আগের সাতটি নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ ছিল বামফ্রন্টের দখলে।ফলে মমতা ব্যানার্জির বিজয়ের ফলে প্রায় ৩৪ বছরের বাম রাজনীতির অবসান ঘটে পশ্চিমবঙ্গে। তার আগেও পশ্চিমবঙ্গ ছিলো ভারতীয় কংগ্রেসের ঘাঁটি। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।বিজেপি কখনোই পশ্চিমবঙ্গে ভালো ফল করতে পারেনি।২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ৩ টি আসন পাওয়া বিজেপির জন্য সোনায় সোহাগা হয়ে ২০২১ সালে আবির্ভুত হন শুভেন্দু অধিকারী।৩ আসন থেকে ২০২১ সালে এক লাফে ৭৭ আসন! ভাবা যায়?
১৯৭০ এর দশকে ভারতীয় কংগ্রেস এর মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি।১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কমিউনিস্ট নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গ লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৯৭ সালে মমতা তাঁর রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস রাজনীতির একপ্রকার কবর দিয়ে দেন।এরপর থেকেই বামফ্রন্টের প্রধান বিরোধীশক্তিতে পরিণত হন মমতা ব্যানার্জি। একইভাবে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস থেকে উত্থান ঘটে শুভেন্দু অধিকারীর । তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজনীতি চাঙ্গা করে তুলেন শুভেন্দু। ১৯৯৯ সালে মমতা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দিয়ে রেলমন্ত্রী হয়েছিলেন।তাঁর ৭১ বছর বয়সী মমতা ব্যানার্জির রাজনৈতিক জীবনের ইতি ২০২৬ সালে তার হাতে গড়ে উঠা শুভেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে মৃত্যু ঘটলো। পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো উত্থান হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপির রাজনীতি। প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভারতের মূখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ পাশ করা ৫৫ বছরের শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু ও মুসলমান সেই ঐতিহাসিক সাম্প্রদায়িক বিরোধ ফের জমে উঠেছিল। পশ্চিমবঙ্গ ছিল অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির সবচেয়ে বড় আদর্শ। কংগ্রেস থেকে শুরু করে বামফ্রন্ট এই ধারা বজায় রাখলেও ২৭ শতাংশ মুসলিম ভোটারের লোভে মমতা পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি শুরু করেন। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মুসলিম কল্যাণ , মাদ্রাসা শিক্ষা ও মুসলিম জনগোষ্ঠী বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানের কাশ্মীর ও বাংলাদেশ থেকে আসা জঙ্গীদের এক নিরাপদ আশ্রয় বানিয়ে ফেলেছিলেন। বাংলাদেশের পাঁচশো এর অধিক স্থানে বোমা হামলা করা জেএমবি জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গকে লাইফলাইন বানিয়ে আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীর, আইএস , আইএসআই ও আল কায়েদার মতো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশে। মমতার এই জঙ্গি তোষণ রাজনীতির সুযোগটাই এইবার পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে নিয়েছে বিজেপি।
নন্দীগ্রাম ইস্যু নিয়ে বাংলার রাজনীতিতে আলোচিত শুভেন্দু ২০২১ সালে মমতার কাছে পরাজিত হলেও সেই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে এইবার পশ্চিমবঙ্গের দিদিকে শেষ পর্যন্ত হারিয়ে দিলেন। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর বাংলাদেশে সামরিক শক্তি ও হস্তক্ষেপের বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন বন্ধের হুমকি দিয়েও শুভেন্দু আলোচিত হয়েছেন। এছাড়াও ভারত সাহায্য না করলে বাংলাদেশের মানুষের ভাত -কাপড় জুটবে না বলা মানুষটি সম্ভবত এইবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ থেকে আগত ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে রাজনীতিতে বাজিমাৎ করেন শুভেন্দু।এতে করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুভেন্দুর অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শুভেন্দুর আনুগত্য ও সাহসী বক্তব্য এবং বাংলাদেশের জঙ্গী অভ্যুত্থান নিয়ে সক্রিয় হয়ে শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গের মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন। অপরদিকে তারেক ভাইয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জি তার রাজনৈতিক কবর খুঁড়ে নিয়েছেন। বাংলাদেশের জঙ্গীদের কাছে জনপ্রিয় মমতা ব্যানার্জি তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য ও জ-ঙ্গী তোষণের কারণে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি থেকে হয়তো চিরতরে নির্বাসিত হয়ে গেলেন।
পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও ভবিষ্যতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের মানুষের হাজার হাজার বছরের সম্পর্ক। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ১৯৭ আসন বনাম তৃণমূলের ৯০ আসন প্রাপ্তি ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত দিচ্ছে।এতে করে বাংলাদেশ সরকারের ভবিষ্যৎ রাজনীতি খাদে পড়ে গেল এতে কোন সন্দেহ নেই। শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রথম জঙ্গীদের লাইফ লাইন ও রসদ সরবরাহ করে দিবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। শুভেন্দু অধিকারীর এই বিজয় বাংলাদেশ সরকারের জন্য এক লাল সতর্কতা সংকেত। বাংলাদেশকে জ-ঙ্গী রাষ্ট্র করার পরিকল্পনা এই বিজয়ের মাধ্যমে বিশাল এক হোঁচট খেয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। ইতিমধ্যে মমতা ব্যানার্জির পরাজয়ে বিজেপির উল্লাস ও বাংলাদেশেরবিএনপি ও জামায়াত শিবিরে কান্নার রোল শুরু হয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।তার ভবিষ্যৎ রাজনীতির উপর পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ভর করছে।এই সম্পর্ক হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে।তাই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই বিজয় ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জিওপলিটিক্সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। মমতার এই পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিএনপি ও জামায়াত হেরে গেছে । তাদের সেভেন সিস্টার্স দখলের স্বপ্ন স্বপ্নদোষ হয়ে গেছে।জিতে গেছে পশ্চিমবঙ্গের ৬.৮২ কোটি ভোটার। পশ্চিমবঙ্গের দিদির সাথে সাথে হেরে গেলো বাংলাদেশের বিএনপি ও জামায়াত।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
(01884-553490, 01911-206989)
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.